বিদেশ বিভূঁইয়ে পড়তে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন? কোন কোন পরীক্ষায় বাজিমাত না করলেই নয়!

উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পাড়ি জমাচ্ছেন। ইউনেস্কোর ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালেই প্রায় ৫৩ হাজার শিক্ষার্থী দেশ ছেড়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে গেছেন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি ও জাপানের মতো উন্নত দেশগুলো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে প্রধান গন্তব্য হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। তবে কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বা আকর্ষণীয় স্কলারশিপ পাওয়ার পথ মসৃণ করতে ভালো একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি কঠোর ভাষাগত দক্ষতা এবং অন্যান্য প্রমিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশের মাটিতে উচ্চশিক্ষার এই স্বপ্নের যাত্রায় সফল হতে হলে শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট কিছু আন্তর্জাতিক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। ইংরেজি মাধ্যমের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য আইইএলটিএস এবং টোয়েফল বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য। ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে দেওয়া আইইএলটিএস স্কোর যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডাসহ বিশ্বের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপকভাবে সমাদৃত। অন্যদিকে, উত্তর আমেরিকা এবং বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য অনেক সময় টোয়েফল স্কোরের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। উভয় পরীক্ষাতেই রিডিং, রাইটিং, লিসেনিং এবং স্পিকিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মডিউলগুলোতে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করতে হয়।
পাশাপাশি, বাণিজ্য ও বিজ্ঞানের উচ্চতর কোর্সের জন্য জিআরই এবং জি-ম্যাট পরীক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। যুক্তরাষ্ট্রের বিজনেস স্কুলগুলোতে এমবিএ বা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কোর্সে ভর্তির জন্য জিম্যাট স্কোর অত্যন্ত জরুরি, যা প্রার্থীর গাণিতিক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা যাচাই করে। অন্যদিকে, বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের স্নাতকোত্তরে ভর্তির জন্য জিআরই স্কোর মাপা হয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কলেজগুলোতে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট বা স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির জন্য স্যাট (SAT) পরীক্ষার প্রয়োজন পড়ে, যা শিক্ষার্থীদের মৌলিক বুদ্ধিমত্তা এবং উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নিখুঁতভাবে যাচাই করে। সঠিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিয়ে এই বাধাগুলো পার করতে পারলেই বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথ প্রশস্ত হয়।