সত্য নিকেতনে ৭ মৃত্যুর পরই কড়া পদক্ষেপ! দিল্লির সমস্ত অবৈধ পিজি ও বহুতল গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

সত্য নিকেতনের ভয়াবহ বহুতল বিপর্যয়ের মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। রাজধানীর সমস্ত অবৈধ ও বিপজ্জনক কাঠামো চিহ্নিত করে তা অবিলম্বে গুঁড়িয়ে দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অব দিল্লি (এমসিডি)-কে এই নির্দেশ কার্যকর করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে দক্ষিণ দিল্লির বহুতল ধসে সাতজনের প্রাণহানির পর আর কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ সরকার।
মুখ্যমন্ত্রীর জারি করা নির্দেশিকায় কেবল বেআইনি ভবন ভাঙার কথাই বলা হয়নি, বরং কোণায় কোণায় গড়ে ওঠা সমস্ত ‘পেয়িং গেস্ট’ (পিজি) আবাসন ও হোস্টেলগুলিতে চিরুনি তল্লাশি ও কঠোর পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমসিডি-র শীর্ষ আধিকারিকদের এসি ঘরের আমলাতন্ত্র পরিহার করে সরাসরি ময়দানে নামার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শহরজুড়ে অভিযানের সময় সিনিয়র অফিসারদের উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি সামলানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। সমস্ত পিজি হোস্টেলের নথি পরীক্ষা করে অবৈধ বা নকশাবহির্ভূত নির্মাণের বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। একই সঙ্গে পুরনো বিল্ডিং রেকর্ড ঘেঁটে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে স্পষ্ট হয় কার শাসনকালে এই বেআইনি নির্মাণগুলি মাথাচাড়া দিয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই উত্তর দিল্লির ছাত্র-অধ্যুষিত মুখার্জি নগরের ইন্দিরা বিহার এলাকায় কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে একটি বিপজ্জনকভাবে হেলে পড়া আবাসিক ভবন ভাঙার কাজ শুরু করেছে পুরসভা। পাশাপাশি থাকা দুটি বহুতলের মাঝে মারাত্মক ফাটল দেখা দেওয়ায় বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এলাকাটি ছাত্রছাত্রী ও পরীক্ষার্থীদের ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় প্রশাসন সময় নষ্ট করেনি।
এদিকে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের স্পষ্ট অভিযোগ, দিনের পর দিন পুরসভাকে জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি। ভূগর্ভস্থ মাটি নীচের দিকে নেমে যাওয়া, পানীয় জলের পাইপে তীব্র লিক এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনাই ভবনগুলির কাঠামো দুর্বল করে দিয়েছে। কয়েক দিন আগে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে সত্য নিকেতনে একটি পাঁচতলা ভবন ভেঙে পড়ে। ভবনটিতে চলা ছেলেদের পিজি-র মেরামতের কাজ চলাকালীন হুড়মুড়িয়ে তা ভেঙে যায় এবং চাপা পড়ে সাতজনের করুণ মৃত্যু হয়।
এই বিপর্যয়ের পর সতর্ক হয়ে এমসিডি ভেঙে পড়া ভবনের পাশের আরেকটি বিপজ্জনক ভবন ভাঙার কাজ শুরু করে। ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে সাউথ জোনের ডেপুটি কমিশনারসহ চারজন ইঞ্জিনিয়ারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশ এই কাণ্ডে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে এবং লিজ নিয়ে পিজি চালানোর সঙ্গে যুক্ত দুজনকে খুঁজছে।