পলাতক তকমা উড়িয়ে বিস্ফোরক দাবি শিল্পপতির! ভারত সরকারের বিরুদ্ধে আনলেন বড় অভিযোগ

হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ না করে ভারত ত্যাগের অভিযোগে জর্জরিত শিল্পপতি বিজয় মালিয়া এবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বড়সড় মন্তব্য করলেন। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি নিজেকে ‘পলাতক’ মানতে সম্পূর্ণ নারাজ। তাঁর স্পষ্ট দাবি, তিনি স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করেননি, বরং আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে তাঁর পক্ষে ব্রিটেন ছাড়া সম্ভব নয়। ব্রিটিশ মুলুকে বসে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ পোস্টে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অবিচারের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
মালিয়ার দাবি, ১৯৯২ সাল থেকে তিনি ব্রিটেনের স্থায়ী বাসিন্দা এবং আইনি বিধিনিষেধের জন্যই তিনি নিজ ইচ্ছায় ভারত বা অন্য কোথাও যেতে পারছেন না। যাঁরা তাঁকে পলাতক বলে দাগিয়ে দিচ্ছেন, তাঁদের উদ্দেশে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন যে ব্রিটিশ আদালতের নিয়ম ও প্রামাণ্য তথ্যের বাইরে গিয়ে তাঁকে ভুলভাবে চিত্রিত করা হচ্ছে। ভারত সরকার তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্নীতির ‘পোস্টার বয়’ বানিয়ে রেখেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি সরকারি নথির ছবি পোস্ট করে মালিয়া উল্লেখ করেন যে, বম্বে হাইকোর্টে পেশ করা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-র হলফনামা অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যেই ১৪,১৩১ কোটি টাকারও বেশি সম্পত্তি ও অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। অথচ তারপরেও তাঁকে বারবার ব্যাঙ্ক প্রতারক ও জালিয়াত বলে নিশানা করা হচ্ছে। তাঁর সংস্থা কিংফিশার এয়ারলাইন্সের মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ৬,২০৩ কোটি টাকা। কিন্তু তাঁর বাজেয়াপ্ত হওয়া সম্পত্তি ও তহবিল থেকেই পরবর্তী সময়ে ইডি কর্মীদের বকেয়া মেটাতে বাধ্য হয়, যার মধ্যে ৩৫০ কোটি টাকা কর্মীদের জন্য ছাড়তে হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের মার্চ মাসে ভারত ছেড়ে ব্রিটেনে পাড়ি দেন মালিয়া। তখন থেকেই ভারত ও ব্রিটেনের আইনি মহলে তাঁর প্রত্যর্পণ ও ঋণ খেলাপ সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেও বম্বে হাইকোর্টে তিনি একই যুক্তির অবতারণা করেছিলেন যে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বাইরে যাওয়ার আইনি অনুমতি তাঁর নেই। যদিও আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল যে, তাঁর নামের সামনের ‘পলাতক’ তকমা মুছতে হলে তাঁকে আইনগতভাবে ভারতেই ফিরতে হবে। বর্তমানে এই বিতর্ক আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।