শহরের নামী রেস্তোরাঁর লাইসেন্স বাতিল হতেই মাথায় হাত অভিনেতা অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের! কোন চরম দ্বিধায় পড়লেন তিনি?

বাঙালির আবেগের তালিকায় বরাবরই ওপরের সারিতে রয়েছে জিভে জল আনা সুস্বাদু বিরিয়ানি। কিন্তু সেই প্রিয় খাবারটিই যদি এমন কোনো দোকান থেকে আসে, যার নাম পরের দিনই খাদ্য দফতরের কড়া নজরদারিতে থাকা বা লাইসেন্স বাতিল হওয়া প্রতিষ্ঠানের কালো তালিকায় উঠে যায়, তখন সাধারণ মানুষের মনের অবস্থা কেমন হতে পারে? ঠিক এইরকমই এক অদ্ভুত ও উভয়সংকটপূর্ণ পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়। আর তাঁর সেই দ্বিধা ও মজার দোটানাই বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটপাড়ার চর্চায় হাসির খোরাক জোগাল।
সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতা ও তার আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় খাদ্যের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে প্রশাসন। শুরু হয়েছে অত্যন্ত কড়া নজরদারি। সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রশাসনের এই বিশেষ অভিযানের পরই শহরের প্রায় ৪০টি নামী-দামী রেস্তোরাঁ ও জনপ্রিয় মিষ্টির দোকানের লাইসেন্স বাতিল হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। একের পর এক সুপরিচিত খাবারের দোকানের বিরুদ্ধে নিয়মহীনতা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভিযোগ ওঠায় স্বাভাবিকভাবেই চরম চিন্তিত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ভোজনরসিক বাঙালিরা।
এই பரபர ও চাঞ্চল্যকর আবহেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত একটি অভিজ্ঞতার কথা অকপটে তুলে ধরেছেন অভিনেতা অনিন্দ্য। জানা গিয়েছে, তাঁর এক বন্ধু অত্যন্ত ভালোবেসে শহরের একটি নামী দোকান থেকে কিনে তাঁর বাড়িতে এক প্যাকেট সুস্বাদু মটন বিরিয়ানি পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু বিপত্তি বাঁধল ঠিক তার পরের দিন সকালে। ঘুম থেকে উঠে খবরের কাগজ খুলতেই অভিনেতা দেখতে পান যে, ঠিক যে দোকান থেকে সেই বিরিয়ানি আনা হয়েছিল, খাদ্য দফতরের শাস্তিমূলক পদক্ষেপের তালিকায় জ্বলজ্বল করছে সেই নামী প্রতিষ্ঠানটির নামও!
এরপরই ফ্রিজে সযত্নে রাখা সেই বিরিয়ানির প্যাকেটটি অভিনেতার কাছে এক বিশাল ‘দ্বন্দ্বের বস্তু’ হয়ে দাঁড়ায়। খাবেন, নাকি খাদ্য নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সোজা ডাস্টবিনে ফেলে দেবেন—এই সহজ সিদ্ধান্তেও পৌঁছাতে না পেরে অনিন্দ্য মজার ছলে একটি পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, ‘আমার একটা প্রশ্ন আছে। আজকে এতগুলো দোকান কেস খেলো। তার মধ্যে একটার একটা মাটন বিরিয়ানি ফ্রিজে আছে। এক বন্ধু গতকাল পাঠিয়েছিল। এখন ভাবছি, খাবো কিনা? খাওয়া উচিত? নাকি খেয়েই নিই? নাকি সোজা ফেলে দিই? বন্ধুত্ব বনাম ফুড সেফটি। ফুল কনফিউজড।’
স্বাভাবিকভাবেই এমন এক পরিস্থিতিতে অভিনেতার অনবদ্য রসবোধ ঝটপট নজর কেড়ে নিয়েছে নেটিজেনদের। তাঁর এই মজার পোস্টটি চোখের পলকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই কমেন্ট বক্স ভরে ওঠে নানা ধরনের হাস্যরসাত্মক ও বুদ্ধিদীপ্ত পরামর্শে। নেটিজেনদের একটা বড় অংশ বন্ধুত্বের খাতিরে দ্বিধাহীনভাবে সেই বিরিয়ানি খেয়ে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ পরম সতর্কবার্তা দিয়ে লিখেছেন, স্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো আপস না করাই শ্রেয়। এমনকি ‘বন্ধুত্ব বাঁচাতে গিয়ে নিজের পেটের লাইসেন্স যেন বাতিল হয়ে না যায়’—এই ধরনের চুটকি ও রসিকতাতেও মেতে ওঠেন ভক্তরা।
শহরজুড়ে যখন খাদ্য নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক কড়াকড়ি নিয়ে জোরদার আলোচনা চলছে, তখন কোনো গুরুগম্ভীর বা ভারী মন্তব্য না করে নিজের দৈনন্দিন জীবনের একটি সাধারণ অথচ মজার ঘটনা দিয়ে গোটা বিষয়টিকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন অভিনেতা অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়। আর তাঁর এই অনন্য ‘বিরিয়ানি বনাম ফুড সেফটি’ দ্বন্দ্বই আপাতত নেটপাড়ার অলিন্দে আলোচনার নতুন খোরাক জোগাল।