ফ্লার্টিং থেকে মহা-রণক্ষেত্র! ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি নিয়েই বিগ বস বাংলার পুরো গেমপ্ল্যান বদলে দিলেন এই ‘রোডিজ’ তারকা?

‘বিগ বস বাংলা’র শান্ত দিঘিতে যেন আক্ষরিক অর্থেই ডিনামাইট ফাটিয়েছেন নতুন ওয়াইল্ড কার্ড প্রতিযোগী রাজবীর দে! অভিনেতা তথা এই জনপ্রিয় প্রাক্তন ‘রোডিজ’ তারকা শো-এর অন্দরে পা রাখার পর থেকেই উত্তাপের পারদ রেকর্ড ভেঙে বহুদূরে গিয়ে ঠেকেছে। একের পর এক প্রতিযোগীর সঙ্গে তীক্ষ্ণ বচসা এবং ঘরের একাধিক মহিলার সঙ্গে তাঁর জমজমাট ফ্লার্টিং—সব মিলিয়ে রাজবীর যে পুরো রিয়েলিটি শো-এর রিমোট কন্ট্রোল নিজের হাতে তুলে নিতে চাইছেন, তা এবার জলের মতো পরিষ্কার। আলেকজান্দ্রিয়াকে সঙ্গে নিয়ে শুরুতেই বিগ বস-বাসীদের অন্দরের সমস্ত হাঁড়ির খবর জেনে ফেলা রাজবীরের এই মোক্ষম ও মাস্টারস্ট্রোক চালে এখন রীতিমতো কোণঠাসা বাকি সমস্ত হেভিওয়েট প্রতিযোগীরা।

সম্প্রতি ঘরের একটি অত্যন্ত টানটান ও সাম্প্রতিক টাস্ককে কেন্দ্র করে বিগ বসের বিলাসবহুল সেট নিমেষেই এক আক্ষরিক রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। প্রি-প্ল্যানড ওই টাস্ক অনুযায়ী রাজবীর সেজেছিলেন গ্রামের এক দাপুটে ‘মোড়ল’, আর তাঁর অনস্ক্রিন স্ত্রীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন আলেকজান্দ্রিয়া। এমন সময় গ্রামের সাধারণ মানুষকে আক্রমণ করা এক হিংস্র ‘বাঘ’-এর চরিত্রে হাজির হন তনুশ্রী। খেলা চলাকালীনই আচমকা তনুশ্রী সোজা রাজবীরকে আক্রমণ করে সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, “আমি কি ছোট বাচ্চা? কিছুই বুঝি না? নাক টিপলে কি দুধ বেরোয়?” রাজবীর তীব্র কটাক্ষের সুরে এক কথায় “ছিঃ” বলে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলেও, প্রতিযোগীদের মধ্যে চলা কথার লড়াই অন্য মোড় নেয়। তনুশ্রীর সেই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর রাজবীরও তাঁর ঘনিষ্ঠ ‘বন্ধু’ জয়িতাকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, “যা বলেছ, তার দায় এবার নিজে নিতে শেখো।”

অবশ্য দ্বন্দ্ব এবং বাকযুদ্ধ এখানেই থেমে থাকেনি। সায়কের একটি মন্তব্যের পিঠে রাজবীর যখন সগর্বে ও আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে ঘোষণা করেন— “সব ক্রিয়ারই একটা সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে”, তখন যেন আগুনে ঘি ঢালার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়! এই আলোচনায় মাঝপথে যোগ দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ উগরে দেন মনামী। রাজবীর নিজের সাফাই গেয়ে বারবার দাবি করতে থাকেন যে, তিনি ঝগড়া বা তর্কে জড়ালেও কাউকেই কোনো রকম গালিগালাজ দেননি, কারণ ওটা তাঁর স্বভাবের বাইরে। কিন্তু মনামী সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা তোপ দেগে বলেন, সরাসরি গালিগালাজ না দিলেও নিজের মুখের মারাত্মক কথার চাবুকে সবাইকে তিনি একেবারে কোণঠাসা ও ছোট করে দিয়েছেন।

তর্কাতর্কি চরমে উঠলে ক্ষোভে এবং অভিমানে ফেটে পড়েন এই হাই-প্রোফাইল ওয়াইল্ড কার্ড প্রতিযোগী। নিজেকে আক্রান্ত দাবি করে রাজবীর ক্যামেরার সামনে অভিযোগ আনেন, “আমাকে ছাগল, অভদ্র ছেলে বলা হচ্ছে! বলা হচ্ছে টলিউড-বলিউড ইত্যাদি ইত্যাদি নানা কথা!” ঠিক তখনই মনামী তাঁকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে সংশোধন করে বলেন, “এই ‘টলিউড’ শব্দটা তো তুমি নিজে বলেছ রাজবীর… যে এখানে টলিউডের সবাই তোমাকে কোণায় ঠেলে দিচ্ছে।” এই কথা শোবামাত্রই যেন তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন রাজবীর— চিৎকার করে বলে ওঠেন, “কেন, সবাই কি আমাকে কোণায় ঠেলে দেয়নি? যেটা আমার সঙ্গে সত্যি সত্যি ঘটছে, আমি সেটাই বলছি!”

একদিকে আলেকজান্দ্রিয়ার সঙ্গে তাঁর রহস্যময় ও বিশেষ সমীকরণ, অন্যদিকে তনুশ্রী ও মনামীর মতো টলিউডের হেভিওয়েট প্রতিযোগীদের সঙ্গে একের পর এক রক্তক্ষয়ী বাকযুদ্ধ—সব মিলিয়ে রাজবীর দে পা রাখার পরেই যে ‘বিগ বস বাংলা’র অন্দরমহল রীতিমতো তোলপাড় হয়ে উঠেছে, তা নিয়ে অনুরাগীদের মনে এখন আর বিন্দুমাত্র কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই!