রিংয়ের চাম্পিয়ন আজ নিজের মাটিতেই অসহায়! মণিপুরের রক্তক্ষয়ী হিংসা নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মেরি কম!

দেশের গণ্ডী পেরিয়ে আন্তর্জাতিক রিংয়ে অসংখ্য প্রবল প্রতিপক্ষকে এক শক্তিশালী পাঞ্চে নকআউট করে যিনি ভারতের ঝুলিতে একাধিক মেডেল ও গৌরব এনে দিয়েছিলেন, আজ সেই কিংবদন্তি অলিম্পিক পদকজয়ী বক্সার মেরি কম নিজের জন্মভূমি মণিপুরের রক্তাক্ত ও জ্বলন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে নিজেকে সম্পূর্ণ ‘অসহায়’ বলে ঘোষণা করলেন। সম্প্রতি জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস ২০’-এর আলো ঝলমলে সেটে নিজের সহ-প্রতিযোগী কণিকা মানের কাছে মন খুলে কথা বলতে গিয়ে মণিপুরের গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা মেইতেই এবং কুকি-জো জাতির অমানবিক ও রক্তক্ষয়ী জাতিগত সংঘাতের ভয়াবহতা নিয়ে নিজের গভীর অনুশোচনা এবং অন্তহীন যন্ত্রণার কথা প্রকাশ করেছেন এই গর্বিত ক্রীড়াবিদ।

গত দুই দীর্ঘ বছর ধরে উত্তর-পূর্ব ভারতের এই ছোট্ট রাজ্যটি লাগাতার অশান্তির আগুনে পুড়ছে। প্রাণ হারিয়েছেন অগণিত সাধারণ মানুষ, আর সর্বস্ব হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার অসহায় পরিবার। নিজের জন্মভূমির এই চরম রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা দূর করতে বা শান্তি ফেরাতে বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলতে না পারার তীব্র আফসোস প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে দেশের এই মেডেলজয়ী তারকাকে। অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে মণিপুরের বিভিন্ন বিবদমান উপজাতির মধ্যে চিরকালীন সম্প্রীতি ও ঐক্যের জোরালো বার্তা দিয়ে মেরি কম বলেছেন, “আমাদের মণিপুরে বহু প্রাচীন উপজাতির মানুষের বসবাস রয়েছে। সকলের মধ্যে সবসময় সুদৃঢ় ঐক্য বজায় রাখা উচিত। জাত-পাত ভুলে সকলেরই উচিত একে অপরকে ভালোবেসে শান্তিতে একসঙ্গে বসবাস করা। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, নিজের জন্মভূমি মণিপুরের সুরক্ষা ও শান্তির জন্য আমি তিলমাত্র কিছু করতে পারলাম না।”

বিশ্বের দরবারে ভারতের ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা সগৌরবে উড়িয়ে দেশের নাম উজ্জ্বল করা এই অদম্য বক্সার নিজের অসহায়তা এবং অপারগতার কথা প্রকাশ করতে গিয়ে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করেননি। বিশ্বজয়ী এই ক্রীড়াবিদের অন্তরের গভীর ক্ষত কতটা তীব্র, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন তিনি বলেন, “আমি একা আর কী-ই বা করতে পারি? আমি তো একজন সাধারণ মানুষ, ভীষণভাবে অসহায়। আমি তো সরকারের কোনো ক্ষমতাশালী চেয়ার বা পজিশনে নেই। দেশের জন্য অনেক সম্মান ও পদক অর্জন করেছি ঠিকই, কিন্তু নিজের রক্তাক্ত রাজ্যের মানুষের জন্য ন্যূনতম কিচ্ছু করতে পারলাম না। আজ নিজের এই অপারগতা নিয়ে বেঁচে থাকতে আমার প্রচণ্ড লজ্জা লাগে।”

উল্লেখ্য, এই জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো-এর জমকালো প্রিমিয়ার পর্বেই মেরি কমের উদ্দেশে ভেসে এসেছিল বলিউড ডিভা প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার একটি বিশেষ ভিডিও বার্তা। ২০১৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মেরি কমের বায়োপিকে তাঁর অনুপ্রেরণাদায়ী চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করা প্রিয়াঙ্কা তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছিলেন, “মেরির নকআউট পাঞ্চ কিন্তু সবসময়ই দারুণ ভারী হয়! মেরি, তুমি যেমন বাস্তব জীবনে, ঠিক তেমনই থেকো। খোলা মনে এই নতুন চ্যালেঞ্জ খেলো। তোমার এই সম্পূর্ণ নতুন সফর দেখার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছি।”