বর্ষা বিদায়ের আগে ফের ভয়ঙ্কর রূপ! একাধিক রাজ্যে ভারী বৃষ্টির লাল সতর্কতা

বিদায়ের ঘণ্টা বেজে গিয়েছে বর্ষার। তবে যাওয়ার আগে একেবারে শেষবারের মতো জোরদার ব্যাটিং করতে চলেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১২ থেকে ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের মধ্য, দক্ষিণ, পূর্ব এবং পশ্চিম ভারতের একাধিক অংশে ফের নামতে চলেছে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি।

একাধিক ওয়েদার মডেলের ইঙ্গিত বলছে, এই কদিন শুধু মুষলধারে বৃষ্টিই নয়, সঙ্গে বজ্রপাত এবং ঝোড়ো হাওয়া বইবারও জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বিদায়লগ্নে বর্ষা যে বেশ চেনা ছন্দে ফিরতে চলেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত আবহাওবিদরা। সাম্প্রতিক INSAT-3D স্যাটেলাইট ইমেজ বলছে, উত্তর-পশ্চিম ভারতে মেঘের আচ্ছাদন অনেকটাই কমলেও পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণাঞ্চলে এখনও মেঘের বহর বেশ সক্রিয়।

ঘাটতি রেখেই বিদায়ের পালা

সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্তই নির্ধারিত থাকে দেশের চার মাসের বর্ষাকাল। এখন সেই অন্তিম সোপানে দাঁড়িয়ে রয়েছে ঋতুচক্র। তা সত্ত্বেও চলতি বছরের সামগ্রিক চিত্রে খুব একটা বড় বদল আসার সম্ভাবনা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। মরশুমের শুরু থেকেই স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা ঘাটতি বজায় রয়েছে বৃষ্টির পরিমাণে। আবহাওয়া দফতর আগেই জানিয়েছিল যে শক্তিশালী এল নিনোর সক্রিয়তার প্রভাব সরাসরি পড়েছে এই বছরের বর্ষার ওপর।

আগামী ১২ থেকে ২১ সেপ্টেম্বরের এই দুর্যোগপূর্ণ স্পেল কেটে যাওয়ার পরেই দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সবার আগে উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে বিদায় নেবে বর্ষা। এরপর ধাপে ধাপে মধ্য এবং পূর্ব ভারত থেকেও পুরোপুরি সরে যাবে মৌসুমী বায়ু।

কৃষকদের জন্য বড় স্বস্তি

শেষবেলার এই বৃষ্টি দেশের কৃষিকাজের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে। বিশেষ করে অনিয়মিত ও খামখেয়ালি বর্ষার মরশুমের পর ফসলের ঠিক এই বৃদ্ধির সময়ে মাটির আর্দ্রতা বজায় রাখতে এই দফার বৃষ্টি ভীষণভাবে সাহায্য করবে। সেপ্টেম্বরের এই পর্বে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল কৃষি অঞ্চলগুলিতে উৎপাদনের ক্ষতি হওয়ার বড় ঝুঁকি ছিল।

সবমিলিয়ে, ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তির হাত থেকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও, পাকাপাকিভাবে বিদায় নেওয়ার আগে শেষবারের মতো আবহাওয়ায় বড় ধরণের উলটপুরাণ ঘটাতে চলেছে এই বর্ষা।