বন্যার কবলে মালদার স্কুলগুলি! পড়াশোনার ধারাবাহিকতা রাখতে বড় ঘোষণা প্রশাসনের!

বর্তমান ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে মালদা জেলাজুড়ে চরম সংকট তৈরি হয়েছে। বানের জলে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার মোট ৮২টি বিদ্যালয়, যার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৫টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ও রয়েছে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা (সেমিস্টার) শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পরীক্ষার ঠিক প্রাক্কালে এই ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। তবে পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ও প্রস্তুতি অক্ষুণ্ণ রাখতে ক্ষতিগ্রস্ত সমস্ত উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত অনলাইন ক্লাসের বিশেষ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

বন্যার কারণে যে সমস্ত হাই স্কুলগুলি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার মধ্যে প্রধানত উল্লেখযোগ্য হলো— উদয়পুর হাই স্কুল, ভুতনি চণ্ডীপুর হাই স্কুল, উত্তর চণ্ডীপুর হাই স্কুল, আমতলা ননীটোলা হাই স্কুল এবং কাটাহা দিয়ারা হাই স্কুল। এই বিদ্যালয়গুলির পডুয়ারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। সাধারণ মানুষের সুরক্ষার জন্য বর্তমানে জেলাজুড়ে মোট ২৩টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র (Flood Shelter) খোলা হয়েছে। এই আশ্রয়কেন্দ্রগুলিতে ঠাঁয় নেওয়া শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যাতে ব্যাহত না হয়, তার জন্য মথুরাপুর মডেল স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিরলসভাবে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি, আজ থেকেই নবম, দশম ও একাদশ শ্রেণির নিয়মিত ক্লাসও শুরু করে দেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলা প্রসঙ্গে মালদার জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, “আমরা সমস্ত ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। দুর্গত মানুষের পাশে আমাদের গোটা প্রশাসনিক টিম সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। কোথাও যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়, তার জন্য আমাদের তরফে সমস্ত প্রচেষ্টা জারি রয়েছে এবং সমস্ত আধিকারিকরা সরাসরি ময়দানে নেমে তদারকি করছেন।”

অন্যদিকে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বন্যার প্রকোপ থাকলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি জলসম্পদ ভবন থেকে বিভিন্ন জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের পর জানানো হয় যে, দুর্গত মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা থেকে শুরু করে পর্যাপ্ত খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল, জরুরি চিকিৎসা এবং যাতায়াতের ক্ষেত্রে সবরকম বিকল্প ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন করে আর ভারী বৃষ্টিপাত না হলে আগামী দিনে বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হতে পারে বলেই প্রশাসনিক স্তরে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।