কোটি কোটি টাকার সাম্রাজ্য বাজেয়াপ্ত করার তোড়জোড়! দেশত্যাগী শেখ হাসিনার সম্পত্তি নিয়ে বাংলাদেশে কিসের তুফান?

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারত আশ্রিত অবস্থায় থাকা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। গণহত্যা মামলা এবং ফাঁড়ার মুখে থাকা সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি দখলে নিতে এবার বড়সড় উদ্যোগ নিয়েছে ওপার বাংলার প্রশাসন।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া শেষ হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নগদ ও জমানো টাকার পরিমাণ ছিল প্রায় ২ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা এবং বিভিন্ন সেভিংস সার্টিফিকেট ও ফিক্সড ডিপোজিটে বিনিয়োগ ছিল প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকা। এছাড়া তাঁর সম্পত্তির তালিকায় ছিল তিনটি গাড়ি, যার মধ্যে দুটি কেনা এবং একটি উপহার পাওয়া, যার সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ৪৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। সোনা, বিভিন্ন বহুমূল্য ধাতু এবং আসবাবপত্র মিলিয়ে আরও লক্ষাধিক টাকার সম্পত্তির উল্লেখ ছিল।
কৃষি ও অন্যান্য উৎস থেকে তাঁর বার্ষিক আয়ের পরিমাণও ছিল বেশ উল্লেখযোগ্য। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর নামে রয়েছে একটি তিনতলা ভবনসহ ৬.১০ শতক জমি এবং পৈতৃক ও কেনা মিলিয়ে প্রায় ১৫.৩ বিঘা কৃষিজমি। পাশাপাশি গাজীপুরের মৌচাক এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে প্রায় ৯ বিঘা জমির ওপর একটি বিলাসবহুল বাগানবাড়ির কথাও নথিতে রয়েছে। আইনি নানা জটিলতা এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার এই প্রশাসনিক উদ্যোগের মাঝেই সম্প্রতি ডিসেম্বরের মধ্যে নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন শেখ হাসিনা, যা এই মুহূর্তে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।