পাহাড়ের দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স! জিটিএ-র লুটপাট কাণ্ডে সোজা এফআইআর ও গ্রেফতারির হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রীর!

পাহাড়ের প্রশাসনে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে এ বার সরাসরি চরম কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উত্তরকন্যায় দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)-এর আর্থিক অনিয়মের তদন্ত শেষ হলেই দায়ীদের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে এফআইআর দায়ের করা হবে এবং গ্রেফতারের পদক্ষেপ করা হবে। শুধু আইনি শাস্তিই নয়, সরকারি তহবিল বা জনগণের করের আত্মসাৎ করা অর্থও কড়ায়-গণ্ডায় উসুল করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক পর্যালোচনার মাঝে জিটিএ-র বিরুদ্ধে ওঠা একরাশ দুর্নীতি নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, কালিম্পং যাওয়ার কথা থাকলেও আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় এবং কপ্টার নামতে না পারায় তিনি ভার্চুয়ালি প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন। সেই বৈঠকেই তিনি জানান, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে এবং আইপিএস আধিকারিক কালিয়াপ্পন জয়রমনের কার্যকরী সদস্য হিসাবে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা ইতিমধ্যেই তৎপরতার সঙ্গে কাজ শুরু করে দিয়েছে।
এদিন জিটিএ-র অধীনে চার শতাধিক শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, ‘অম্রুত’ প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে অসঙ্গতি এবং পাহাড়ের বিভিন্ন জনজাতির উন্নয়নের জন্য গঠিত লেপচা ও তামাং বোর্ড-সহ মোট ১১টি উন্নয়ন পর্ষদের তহবিল নিয়ে বড়সড় দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। কালিম্পংয়ের বাসিন্দাদের পাশাপাশি পাহাড়ের সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে তিনি পরিষ্কার ভাষায় জানান, শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার প্রকল্পে যেখানেই দুর্নীতির প্রমাণ মিলবে, কাউকেই রেয়াত করা হবে না। পাহাড়ের উন্নয়নে রাজ্য সরকার কড়া হাতে দুর্নীতির দমন করতে বদ্ধপরিকর।