ইডি নথি বিতর্ক ঘিরে উত্তাল বিধানসভা! ডিএমকে বিধায়কদের হর্ষধ্বনি ও স্লোগানে মার্শাল ডেকে বহিষ্কার

তামিলনাড়ু বিধানসভায় মঙ্গলবার এক অভূতপূর্ব ও চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রাজ্য বিধানসভার কার্যকলাপে প্রধান বিরোধী দল ডিএমকে জোরদার দাবি তোলে যে, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) নথির ওপর ভিত্তি করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় সম্প্রতি যে বক্তব্য রেখেছেন, তা যেন অবিলম্বে বিধানসভার সরকারি নথি থেকে বাদ দেওয়া হয়। এই দাবিকে কেন্দ্র করে বিধানসভার অন্দরে তুমুল বিশৃঙ্খলা ও হাঙ্গামা শুরু করেন ডিএমকে বিধায়করা। অধিবেশন কক্ষের ভেতরে তাঁরা তীব্র স্লোগান দিতে থাকেন, যার ফলে পরিষদীয় কার্যক্রম সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় এবং চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হওয়ায় বাধ্য হয়ে মার্শাল ডেকে প্রধান বিরোধী দলের বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের জোর করে অধিবেশন কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়।

বিধানসভার আজকের কার্যক্রম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ডিএমকে-র চিফ হুইপ ইভি ভেলু মুখ্যমন্ত্রীর সোমবারের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তীব্র আপত্তি জানান। তিনি দাবি করেন, ইডি-র দুর্নীতির অভিযোগের মতো স্পর্শকাতর ও বিচারাধীন বিষয়গুলো নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভার ফ্লোরে যেসব মন্তব্য করেছেন, তা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত এবং তা যেন কার্যবিবরণী থেকে মুছে ফেলা হয়। পাশাপাশি, বিতর্কিত সরকারিয়া কমিশনের উল্লেখ করার বিষয়টিতেও কড়া আপত্তি জানান ভেলু। তিনি জোরালোভাবে দাবি করেন যে, বিগত ওই নির্দিষ্ট ঘটনায় কোনো আইনি অপরাধ বা অনিয়ম প্রমাণিত হয়নি, ফলে তা জনসমক্ষে বা বিধানসভার নথিতে উল্লেখ করা অনুচিত।

এই তীব্র বাকবিতণ্ডা ও বিরোধী দলের স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে বিধানসভার পরিবেশ মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শাসকদল এবং বিরোধীদের মুখোমুখি অবস্থানের জেরে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা কাটাতে স্পিকার ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়। মার্সালদের হস্তক্ষেপে বিরোধী বিধায়কদের কক্ষ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণ এবং রাজ্যের প্রশাসনিক ও আইনসভার অন্দরে এই ঘটনা যে এক নতুন সংঘাতের সূচনা করল, তা বলাই বাহুল্য।