পাহাড়ে পালাবদলের জের! অনীত থাপার পদত্যাগের পরেই জিটিএ-র নতুন প্রশাসক হলেন স্মৃতিরঞ্জন মোহান্তী

রাজ্যে পালাবদলের পর তৃতীয়বারের জন্য পাহাড় সফরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার ঠিক আগেই গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (জিটিএ) শীর্ষ পদে এল বিরাট পরিবর্তন। জিটিএ-র মুখ্যসচিব স্মৃতিরঞ্জন মোহান্তিকে নতুন ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটর’ বা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। অনীত থাপার পদত্যাগের পর থেকেই পাহাড়ে এই পদের দায়িত্ব শূন্য ছিল। পাহাড়ে প্রশাসনিক শূন্যতা ও দুর্নীতি রুখতে এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম ও নাগরিক পরিষেবা সুচারুভাবে পরিচালনার স্বার্থেই এই বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে ঠিক মুখ্যমন্ত্রীর সফরের প্রাক্কালে জিটিএ-তে প্রশাসক নিযুক্ত করায় পাহাড়ের রাজনৈতিক মহলে জোরদার গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর (হিল অ্যাফেয়ার্স ব্রাঞ্চ) একটি বিশেষ সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জিটিএ-র চিফ এক্সিকিউটিভ পদে থাকা অনীত থাপা চলতি বছরের গত ১৭ জুন রাজ্যপালের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন। পরবর্তীতে গত ২৪ জুন তাঁর সেই পদত্যাগপত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়। এর পাশাপাশি, জিটিএ সভার চেয়ারম্যান অঞ্জুল চৌহান এবং ডেপুটি চেয়ারম্যান রাজেশ চৌহানও তাঁদের নিজ নিজ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। রাজ্যপাল তাঁদের পদত্যাগপত্রও গ্রহণ করেছেন।

রাজ্যে পালাবদলের পর পাহাড়ের রাজনৈতিক মহলেও চরম অস্থিরতার সৃষ্টি হয়। বিগত রাজ্যের শাসকদলের জোট শরিক হওয়ায় অনীত থাপার ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার উপরেও ব্যাপক চাপ বাড়তে থাকে। এক সময় পঞ্চায়েত থেকে পুরসভা এবং জিটিএ-র ক্ষমতার শীর্ষে থাকা বিজিপিমের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা পালাবদলের পর একে একে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। অন্যদিকে, ক্ষমতায় এলে জিটিএ খারিজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। এই পরিস্থিতিতে ক্ষমতায় থাকলেও জিটিএ পরিচালনায় মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হন অনীত থাপারা। পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরেই জিটিএ-র বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও আর্থিক তছরুপের অভিযোগে সরব হয়েছিল বিজেপি এবং পাহাড়ের অন্যান্য আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলি।

দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা জানান, বিগত দিনে জিটিএ দুর্নীতি এবং আমলাতান্ত্রিক স্বেচ্ছাচারিতার আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। সাধারণ পাহাড়বাসীর উন্নয়নের টাকা নয়ছয় করা হয়েছে এবং বিপুল অর্থের প্রকল্পগুলো কেবল ঠিকাদার ও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের স্বার্থে তৈরি করা হয়েছিল। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, রাজ্য সরকার পাহাড়ে স্বচ্ছতা আনতে বিচারবিভাগীয় তদন্তের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে দুর্নীতিগ্রস্তদের রেহাই পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং পাহাড়বাসী খুব শীঘ্রই তাদের ন্যায্য অধিকার ও আসল উন্নয়ন ফিরে পাবে।

এদিকে অনীত থাপার পদত্যাগের পর দু’মাসেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও শীর্ষ পদটি শূন্য পড়ে থাকায় পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়ন ও নাগরিক পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে জনস্বার্থ এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা অক্ষুণ্ণ রাখতে রাজ্যপালের নির্দেশে জিটিএ-র মুখ্যসচিব স্মৃতিরঞ্জন মোহান্তিকে অবিলম্বে প্রশাসক পদে নিযুক্ত করা হয়েছে। এরই মাঝে রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর এই পাহাড় সফর প্রশাসনিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। পাহাড়ের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জট কাটাতে, বিভিন্ন প্রকল্পের দুর্নীতি তদন্ত ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা নিয়ে পর্যালোচনা করতে এবং নতুন প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করে পাহাড়ের পর্যটন ও সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনার নতুন রূপরেখা তৈরি করতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।