কপালের ভেতর যেন ড্রিল চলছে! কেন পুরুষদের চেয়ে নারীদের মাইগ্রেনের ঝুঁকি তিন গুণ বেশি?

অন্ধকার ঘরে শুয়ে থাকা আর নিরবচ্ছিন্ন ব্যথা—যেন কেউ কপালের ভেতর ড্রিল করে ঢুকে যাচ্ছে। মাইগ্রেনে ভোগা মানুষের কাছে এটি অত্যন্ত পরিচিত এক অভিজ্ঞতা। সম্পর্ক, চাকরি ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে অক্ষম করে দেওয়ার মতো এই শারীরিক অবস্থা। এটি বিশেষভাবে নারীদের বেশি প্রভাবিত করে। পুরুষদের তুলনায় নারীদের মাইগ্রেন আক্রমণের ঝুঁকি তিন গুণ বেশি। কিন্তু মাইগ্রেনের আক্রমণ কেন হয় এবং এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কী করা যেতে পারে? যুক্তরাজ্যের দাতব্য সংস্থা মাইগ্রেন ট্রাস্টের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রতি সাতজনের মধ্যে প্রায় একজন মাইগ্রেনে আক্রান্ত হন। এটি একটি জিনগত ও স্নায়ুবিষয়ক অবস্থা, যা মস্তিষ্ককে পরিবর্তনের প্রতি আরও সংবেদনশীল করে তোলে। ন্যাশনাল মাইগ্রেন সেন্টারের বিশেষজ্ঞ ডা. ক্যাটি মনরো বলেন, কিছু মানুষ এই জিন বহন করলেও কখনও সেটি সক্রিয় হয় না। কিন্তু অন্যদের ক্ষেত্রে বাহ্যিক কারণ মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট পথ সক্রিয় করে দেয়, যা থেকে বমি, মাথা ঘোরা ও ব্রেন ফগের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। কেবল একটি বিষয় নয়, ছোট ছোট নানা কারণ মিলে সহনসীমা অতিক্রম করায়। এর মধ্যে হরমোনের পরিবর্তন, রক্তে শর্করার অনিয়ম, কম ঘুম এবং মানসিক চাপ বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে নারীদের মাসিক চক্র, পেরিমেনোপজ এবং হরমোনের দ্রুত পরিবর্তন মাইগ্রেনকে আরও খারাপ করে তোলে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে শুরুতেই ওষুধ খাওয়া এবং জীবনযাত্রায় নিয়মিত অভ্যাস বজায় রাখা জরুরি।