৪৬ দিনের অপেক্ষা শেষ! রান্নার গ্যাস বুকিংয়ের নিয়মে ঐতিহাসিক বদল আনল কেন্দ্র, স্বস্তি পেলেন গ্রাহকরা?

কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস প্রতিমন্ত্রী সুরেশ গোপী সোমবার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করে জানিয়েছেন যে, সরকার ডোমেস্টিক বা গৃহস্থালির এলপিজি (LPG) সিলিন্ডার রিফিল বুকিংয়ের ক্ষেত্রে ন্যূনতম সময়ের ব্যবধান ৪৫ দিন থেকে কমিয়ে সরাসরি ২৫ দিন করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই নতুন এবং যুগান্তকারী নিয়ম দেশের শহরাঞ্চলের পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার সমস্ত ডোমেস্টিক এলপিজি গ্রাহকদের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।
এই নিয়মের মূল পরিবর্তন সম্পর্কে বলতে গেলে, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক দেশের সমস্ত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে (OMC) কঠোর নির্দেশ দিয়েছে যাতে অবিলম্বে এলপিজি রিফিল বুকিংয়ের মধ্যে একটি অভিন্ন ২৫ দিনের সময়সীমা চালু করা হয়। মন্ত্রক থেকে তেল বিপণন সংস্থাগুলির কাছে পাঠানো সেই বিশেষ নির্দেশিকার একটি অফিসিয়াল প্রতিলিপি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুরেশ গোপী তাঁর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও শেয়ার করেছেন।
কিন্তু কেন হঠাৎ এলপিজি বুকিংয়ের এই সময়সীমা সংশোধন করা হলো? এর নেপথ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক নানা সমীকরণ। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে হঠাৎ সংঘাত শুরু হওয়ার পর জ্বালানির চাহিদা নিয়ন্ত্রণ এবং দেশীয় বাজারে এলপিজি সরবরাহের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানোর একটি অস্থায়ী পদক্ষেপ হিসেবে মন্ত্রক আগে বুকিংয়ের এই সময়সীমা বাড়িয়েছিল। মন্ত্রকের প্রকাশিত চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত সংঘাতের সময় মন্ত্রক পিআইবি (PIB)-র প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চাহিদা নিয়ন্ত্রণের অস্থায়ী কৌশল হিসেবে শহরাঞ্চলে ২৫ দিন এবং গ্রামীণ এলাকায় রিফিল বুকিংয়ের সময়সীমা দীর্ঘ করে ৪৫ দিন নির্ধারণ করেছিল।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের সেই সংকটজনক পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি ঘটেছে। পাশাপাশি, বাজারে রিফিল সংক্রান্ত বকেয়া বা ব্যাকলগের পরিমাণও বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এই সমস্ত বাস্তব দিকগুলি বিচার করেই মন্ত্রক বিদ্যমান রিফিল বুকিংয়ের সময়সীমা পুরোপুরি সংশোধন করার এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন থেকে দেশের যেকোনো প্রান্তে থাকা গ্রামীণ এলাকাসহ সমস্ত ডোমেস্টিক এলপিজি গ্রাহকরা ন্যূনতম ২৫ দিনের ব্যবধানেই পরবর্তী সিলিন্ডার বুক করতে পারবেন।
ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রধান তেল বিপণন সংস্থা যেমন ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড (IOCL), ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (BPCL) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (HPCL)-কে মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সাফ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তারা যেন শহর ও গ্রামীণ উভয় এলাকার গ্রাহকদের জন্য এই নিয়ম অবিলম্বে কঠোরভাবে কার্যকর করে। সরকারের এই নির্দেশ ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে সমানভাবে লাগু হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে, তেমনই রান্নার গ্যাসের সরবরাহ ব্যবস্থাও আরও বেশি গতি পাবে।