চমকপ্রদ লুক আর দুর্দান্ত মাইলেজ! মারুতির নতুন ব্যালেনো কাঁপাতে আসছে ভারতীয় অটো বাজার, জানুন দাম ও ফিচার্স

মারুতি সুজুকি তাদের অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রিমিয়াম হ্যাচব্যাক গাড়ি ব্যালেনোকে একদম নতুন অবতারে ভারতীয় বাজারে লঞ্চ করেছে। আকর্ষণীয় লুকের পাশাপাশি এই মডেলে সুরক্ষা, স্বাচ্ছন্দ্য এবং আধুনিক প্রযুক্তির দিক থেকে বিরাট পরিবর্তন এনেছে প্রস্তুতকারক সংস্থা। নতুন মারুতি ব্যালেনো-র এক্স-শোরুম প্রারম্ভিক মূল্য রাখা হয়েছে মাত্র ৬,০৯,৯০০ টাকা। ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে সংস্থার নেক্সা (Nexa) শোরুমগুলির মাধ্যমে মাত্র ১১,০০০ টাকার টোকেন অ্যামাউন্টে গাড়িটির বুকিং প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। নতুন ব্যালেনো-র সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর উন্নতমানের লেভেল ২ ADAS (Advanced Driver Assistance Systems) প্রযুক্তি। এই অত্যাধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় র্যাডার এবং ক্যামেরা একত্রিত হয়ে কাজ করে, যার মধ্যে রয়েছে অটোমেটিক এমার্জেন্সি ব্রেকিং, লেন কিপ অ্যাসিস্ট, লেন ডিপার্চার ওয়ার্নিং, অ্যাডাপটিভ ক্রুজ কন্ট্রোল, হাই বিম অ্যাসিস্ট এবং ফরোয়ার্ড কলিশন ওয়ার্নিংয়ের মতো ফিচার। এছাড়াও প্যাসেঞ্জারদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গাড়িতে দেওয়া হয়েছে স্ট্যান্ডার্ড ছয়টি এয়ারব্যাগ, ইলেকট্রনিক স্টেবিলিটি কন্ট্রোল (ESC), ইবিডি (EBD), হিল হোল্ড অ্যাসিস্ট এবং টায়ার প্রেশার মনিটরিং সিস্টেম (TPMS)। গাড়ির কেবিন বা ভিতরের স্বাচ্ছন্দ্যের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যালেনো-র সামনের সিটগুলিতে আধুনিক ভেন্টিলেশন বা কুলিং সিস্টেম যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি কেবিনকে আরও প্রিমিয়াম লুক দিতে রয়েছে লেদারে মোড়া সিট, ডুয়াল-টোন ইন্টিরিয়র, ওয়্যারলেস চার্জিং প্যাড, ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা এবং হেডস-আপ ডিসপ্লে। ইনফোটেইনমেন্টের জন্য এতে ৯ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন ডিসপ্লে এবং ক্ল্যারিয়ন (Clarion) কোম্পানির উচ্চমানের সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। সুজুকি কানেক্ট (Suzuki Connect) ফিচারের মাধ্যমে চালক রিমোট কন্ট্রোলসহ গাড়ির লাইভ লোকেশন ও ট্রিপের সমস্ত তথ্য সহজেই ট্র্যাক করতে পারবেন। পারফরম্যান্সের দিক থেকেও গাড়িটিতে বড়সড় যান্ত্রিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন ব্যালেনো-তে ব্যবহার করা হয়েছে ১,১৯৭ সিসির নতুন Z12E পেট্রোল ইঞ্জিন, যা সর্বোচ্চ ৮৩ হর্সপাওয়ার শক্তি এবং ১১২.৪ নিউটন মিটার টর্ক উৎপন্ন করতে সক্ষম। গ্রাহকরা তাঁদের পছন্দমতো ৫-স্পিড ম্যানুয়াল কিংবা অটোমেটিক গিয়ারবক্সের বিকল্প বেছে নিতে পারবেন। কোম্পানির দাবি অনুযায়ী, এই পেট্রোল মডেলের ম্যানুয়াল সংস্করণে প্রতি লিটারে ২৩.৮০ কিমি এবং অটোমেটিক সংস্করণে ২৪.৭৭ কিমি পর্যন্ত দুর্দান্ত মাইলেজ পাওয়া যাবে। অতিরিক্ত জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য এতে অত্যাধুনিক স্টার্ট-স্টপ টেকনোলজি রাখা হয়েছে। পেট্রোল সংস্করণের পাশাপাশি নতুন Z12E ইঞ্জিনের সঙ্গে পরিবেশবান্ধব এস-সিএনজি (S-CNG) ভ্যারিয়েন্টও বাজারে আনা হয়েছে। সিএনজি চালিত এই মডেলটিতে ৫-স্পিড ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সের পাশাপাশি এবার অটোমেটিক এএমটি (AMT) গিয়ারবক্সের সুবিধাও রাখা হয়েছে, যা এই সেগমেন্টে প্রথম। মারুতি সুজুকির দাবি অনুযায়ী, সিএনজি মোডে এই গাড়ি প্রতি কেজিতে বাম্পার ৩৩.৬১ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজ দিতে সক্ষম। অন্যদিকে এক্সিটের ডিজাইনে নতুন নেক্সওয়েভ (NexWave) ফ্রন্ট গ্রিল, রিফাইনড বাম্পার এবং আকর্ষণীয় ‘এনিগমাটিক টিল’ (Enigmatic Teal) রঙের অপশন যোগ করা হয়েছে। সবমিলিয়ে, সাশ্রয়ী বাজেট ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে তৈরি এই প্রিমিয়াম হ্যাচব্যাকটি প্রতিযোগিতার বাজারে এক নতুন বিপ্লব ঘটাতে চলেছে।