পুজোর অনুদান নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত! অনুদান নিলেন না সজল ঘোষ থেকে শুরু করে একাধিক হেভিওয়েট ক্লাব, জানুন বিস্তারিত

আসন্ন দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে এক নতুন চর্চা। একদিকে যখন উৎসবের মরশুমে ক্লাবগুলিকে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে, অন্যদিকে তখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি বিশেষ বার্তার পর থেকেই একের পর এক নামী পুজো কমিটি সরকারি অনুদান না নেওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজ্য সরকারের এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, ছোট ও মাঝারি পুজো কমিটিগুলির পাশাপাশি বড় বাজেটের ক্লাবগুলির জন্যও অনুদান সংক্রান্ত নির্দিষ্ট পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কারা সরকারি অনুদান বর্জন করলেন?
রাজ্যের বিরোধী তথা বিশিষ্ট বিধায়ক সজল ঘোষের পরিচালনায় বিখ্যাত পুজো সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তাঁরা অতীতেও সরকারি অনুদান নেননি এবং এবারও নেবেন না। এই সিদ্ধান্তের কথা সজল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে এনেছেন। একই পথ অনুসরণ করে সরকারি অনুদান না নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে চোরবাগান সর্বজনীনও। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে অনুদান বয়কট করেছে তালবাগান প্রত্যয় ক্লাব এবং সন্তোষপুর লেক পল্লী। এমনকি, সরকারি সাহায্য ছাড়াই এবছর দুর্গোৎসব সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফুলবাগান সর্বজনীন।

রাজডাঙা নবোদয় সঙ্ঘের অভিনব উদ্যোগ:
অন্যান্য ক্লাবগুলির মতো সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হেঁটে এক দারুণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে রাজডাঙা নবোদয় সঙ্ঘ। এই ক্লাবের চেয়ারপার্সন কেয়া ঘোষ রাজ্য সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, ছোট ও বড় সব পুজোর পাশেই দাঁড়িয়েছে সরকার। বিশেষ করে বিদ্যুতের বিলে ১০০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। রাজডাঙা নবোদয় সঙ্ঘ এবার সরকারি অনুদান নেওয়ার পরিবর্তে উল্টো মুখ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অর্থ সাহায্য জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারীর মূল বক্তব্য কী ছিল?
পুজো অনুদান প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, একটি ভালো মানের পুজো শহরে করতে গেলে অন্তত ১০ লক্ষ টাকা এবং গ্রামে ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকার প্রয়োজন হয়। ছোট পুজোগুলোকে বিজ্ঞাপন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট জানান যে, বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলি যেন সরকারের কাছে আর্থিক সাহায্য না নেয়। তিনি বলেন, যাঁরা বড় পুজোর আয়োজন করেন এবং যাঁদের এই ১ লক্ষ টাকার অনুদান ছাড়া পুজো করা সম্ভব, তাঁরা যেন সরকারের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের উদ্যোগে পুজো করেন। তবে যেসব ছোট পুজো কমিটি এই আর্থিক সহায়তা ছাড়া উৎসব পরিচালনা করতে পারবে না, শুধুমাত্র তাদের জন্যই এই ১ লক্ষ টাকার অনুদান বজায় রাখা হবে।