ঝুলন মেলার মাঝেই উখড়ায় চাঞ্চল্য! সার্কাসের তাঁবু থেকে কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, নেপথ্যে কী রহস্য?

খনি অঞ্চল থেকে শুরু করে আশপাশের গ্রামগুলিতে উৎসবের আমেজ যখন ঠিক তখনই ঘটে গেল এক অবিশ্বাস্য ও মর্মান্তিক ঘটনা। প্রতি বছরের মতো অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে শুরু হয়েছে উখড়ার ঐতিহ্যবাহী ঝুলন মেলা। নানান পণ্যের পসরা সাজানো দোকানপাট এবং শিশু-কিশোরদের মনোরঞ্জনের জন্য মেলা প্রাঙ্গণে বসেছে রকমারি সার্কাসের আসর। কিন্তু সেই আনন্দঘন উৎসবের আবহ মুহূর্তের মধ্যে বিষাদে পরিণত হলো যখন মঙ্গলবার সকালে সার্কাসের নিজস্ব তাঁবুর ভেতর থেকে এক কর্মীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হলো। এই আকস্মিক ঘটনায় গোটা মেলা চত্বর তো বটেই, সংলগ্ন এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত সার্কাস কর্মীর নাম অনিল কুমার ঠাকুর (৫৭)। তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নদিয়া জেলার বেতাই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। উৎসবমুখর পরিবেশে এমন একটি দুঃখজনক খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় অন্ডাল থানার উখড়া ফাঁড়ির একদল পুলিশ। পুলিশ কর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং তাঁবুর ভিতর থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। ঠিক কী কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলো, তা নিয়ে এখন চলছে জোরদার তদন্ত।

সার্কাস কোম্পানির ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকা রথীন্দ্র কুমার চট্টোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান যে, সার্কাসের প্রকাণ্ড তাঁবু কীভাবে সঠিক নিয়মে ও নিখুঁত মাপে বাঁধা হবে, তার নকশা তৈরি এবং নির্মাণসংক্রান্ত কাজে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন অনিল কুমার। এই বিশেষ কাজের দায়িত্বে থাকা আগের কর্মী বয়সজনিত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে কিছুদিন আগেই কাজ ছেড়ে চলে যান। এরপর নদিয়ার বাসিন্দা অনিলবাবু নিজে থেকেই সার্কাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং এই কাজে যোগ দেন। রথীন্দ্রবাবুর দাবি অনুযায়ী, সোমবার রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত অনিল স্বাভাবিকভাবেই নিজের সমস্ত কাজ করেছেন। অথচ তার পরের দিন সকালেই তাঁর এই ধরনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনাটি কাউকে বিশ্বাস করতে দিচ্ছে না।

উৎসবের মরসুমে মেলা চলাকালীন সার্কাসের তাঁবুর ভেতরে একজন কর্মীর এমন রহস্যমৃত্যুর ঘটনা ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এটি নিছকই আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর রহস্য বা পেশাগত চাপ রয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের সম্পূর্ণ রিপোর্ট হাতে আসার পরেই অনিল কুমার ঠাকুরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে। এই আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুর জেরে ঝুলন মেলার আনন্দ অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে এবং সাধারণ মানুষের মনে নানা ধরনের প্রশ্ন দানা বাঁধছে।