সন্তান কোন ক্লাসে পড়ে জানেন তো? বাবা-মায়ের এই মারাত্মক ভুলেই ধ্বংস হচ্ছে ছোটদের ভবিষ্যৎ!

সন্তানকে ভালো স্কুলে দেওয়া, তার সমস্ত শখ-আহ্লাদ মেটানো এবং তার জন্য রোজগার করাই কি অভিভাবকত্বের শেষ কথা? একটু ভেবে দেখুন তো, আপনার সন্তান ঠিক কোন ক্লাসে পড়ে, তার রোল নম্বর কত, তার প্রিয় বন্ধুর নাম কী বা তার কোন বিষয়ে ভয় কাজ করে— এই খুঁটিনাটি বিষয়গুলো কি আপনার নখদর্পণে আছে? যদি উত্তর ‘না’ হয় এবং বাড়ির সমস্ত প্যারেন্টিংয়ের দায়িত্ব আপনার সঙ্গী একাই সামলান, তবে মনোবিদ্যার পরিভাষায় আপনি একজন ‘প্যাসেঞ্জার প্যারেন্ট’। অর্থাৎ সন্তানের জীবনের গাড়িতে আপনি সওয়ারী ঠিকই, কিন্তু স্টিয়ারিংটা অন্যের হাতে ছেড়ে পিছনের সিটে বসে কেবল যাত্রা উপভোগ করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্যাসেঞ্জার প্যারেন্টিং বা ‘যাত্রী অভিভাবকত্ব’-এর প্রভাব শিশুর কচি মনে সুদূরপ্রসারী এবং অত্যন্ত মারাত্মক হতে পারে। যখন শিশু বুঝতে পারে যে বাবা বা মায়ের মধ্যে একজন তার প্রতি পুরোপুরি উদাসীন, তখন তার মনে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা এবং আত্মবিশ্বাসের অভাব তৈরি হয়। সে অবচেতনভাবেই ভাবতে শুরু করে যে সে হয়তো যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নয়। অন্যদিকে, যে অভিভাবক একাই সমস্ত দায়িত্ব সামলান, তিনি চরম শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তির শিকার হন, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘প্যারেন্টাল বার্নআউট’ বলা হয়। ফলে সেই ক্লান্তির রেশ গিয়ে পড়ে নিষ্পাপ শিশুটির ওপর।
এছাড়াও, এই ধরনের পরিবেশে বড় হলে শিশুরা ভুলভাবে সম্পর্ক ও পক্ষপাতিত্ব করতে শেখে। তারা খুব সহজেই বুঝতে পারে কার কাছে বায়না করলে কাজ হবে এবং কাকে এড়িয়ে চলা যায়। এমনকি ভবিষ্যৎ দাম্পত্য জীবন সম্পর্কেও তাদের মনে ভুল ধারণার সৃষ্টি হয়। কারণ ছোটবেলা থেকে যা সে দেখে, বড় হয়ে সেটাই তার কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হয়।
এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র উপায় হলো দুজনে মিলে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া। প্যারেন্টিং কোনো একজনের কাজ নয়, এটি পুরোপুরি একটি টিমওয়ার্ক। তাই প্রতিদিন অন্তত কিছুটা সময় মোবাইল ও স্ক্রিন থেকে দূরে সরিয়ে রেখে সন্তানের সঙ্গে কাটান, তার কথা শুনুন। মনে রাখবেন, সন্তানের জন্য দামী খেলনা বা বিলাসবহুল জামাকাপড়ের চেয়ে আপনার সক্রিয় উপস্থিতি এবং সময়ই তার জীবনের সবচেয়ে অমূল্য সম্পদ।