পুজোর ডিউটি করলেই দু’দিনের সবেতন ছুটি! পুলিশ ও দমকলকর্মীদের জন্য বাম্পার উপহার মুখ্যমন্ত্রীর

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোকে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাখতে যাঁরা দিনরাত এক করে পরিশ্রম করেন, সেই সমস্ত পুলিশ, দমকল এবং পুরসভার কর্মীদের জন্য বিশেষ আর্থিক ও ছুটির পুরস্কার ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। সোমবার মিলনমেলা প্রাঙ্গণে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি বৈঠকে মিলিত হয়ে এই সুসংবাদের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ঘোষণা করেছেন, টানা পুজোর ডিউটি শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মীরা বেতন-সহ অতিরিক্ত দু’দিনের ছুটি উপভোগ করতে পারবেন।
এদিনের বৈঠকে ছুটির ঘোষণার পাশাপাশি পুজোর আয়োজনের ক্ষেত্রে একাধিক কঠোর শর্ত ও নিয়মের কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পুজো ও বিসর্জনের সময় কোনোভাবেই ডিজে বাজানো যাবে না; এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিমা, প্যান্ডেল বা থিম তৈরির ক্ষেত্রে এমন কিছু করা যাবে না যা রাজ্যের সনাতনী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আঘাত করে। জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে মহাষ্টমীর দিন সমস্ত মদের দোকান ও বার সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, অগ্নিসংযোগের ঝুঁকি এড়াতে উদ্যোক্তাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিসর্জনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ২৪ অর্থাৎ কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আগের দিনের মধ্যেই সমস্ত প্রতিমা বিসর্জনের কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। অতীতে মহালয়ার আগে পুজোর উদ্বোধনের যে ট্রেন্ড ছিল, তাতেও রাশ টানা হয়েছে। এবার মহালয়ার আগে কোনো পুজো উদ্বোধন হবে না। বরং মহালয়ায় কলকাতার ইডেন গার্ডেনে এক বিরাট মেগা শো-র মাধ্যমে শারদোৎসবের সূচনা হবে, যেখানে প্রধানমন্ত্রীকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রথযাত্রা বা অন্যান্য উৎসবের মতো দুর্গাপুজোতেও পূর্ণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে প্রশাসন।