১.১০ লক্ষ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা চুক্তি! দেশীয় অস্ত্রেই কি এবার ড্রাগন-পাকিস্তানকে জবাব দেবে ভারত?

তিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC)-এর বৈঠকে তিন বাহিনীর আধুনিকীকরণের জন্য প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা এবং অপারেশনাল প্রস্তুতি বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বৈঠকে ভারতীয় সেনার জন্য বেশ কিছু অত্যাধুনিক সরঞ্জাম সংগ্রহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কেমিক্যাল বায়োলজিক্যাল রেডিওলজিক্যাল অ্যান্ড নিউক্লিয়ার (CBRN) রেকি ভেহিকলস, হাই মোবিলিটি ভেহিকলস, সেলফ-প্রোপেলড মেকানিক্যাল মাইন লেয়ার্স (MML), অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার এবং সর্বত্র ব্রিজ সিস্টেম। সিবিআরএন ভেহিকলগুলি রাসায়নিক বা পরমাণু অস্ত্র দ্বারা প্রভাবিত এলাকা দ্রুত শনাক্ত করতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, দুর্গম অঞ্চলে সেনা ও রসদ দ্রুত পরিবহনের জন্য হাই মোবিলিটি ভেহিকল অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হবে।
নৌসেনার শক্তি বাড়াতেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নৌবাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য অরুন্ধরা রাডার এবং মেরিন গ্যাস টারবাইন ডিজাইন ও তৈরির অনুমোদন মিলেছে। এই রাডারগুলি নেভাল এয়ার স্টেশনগুলির পুরনো রুট সার্ভেইলেন্স রাডারগুলির স্থান নেবে। পাশাপাশি, যুদ্ধজাহাজের প্রপালশন সিস্টেম দেশেই তৈরি ও সংগ্রহের ফলে বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমবে।
ভারতীয় বায়ুসেনার ফাইটার জেট, ট্রান্সপোর্ট প্লেন ও হেলিকপ্টারগুলির কার্যকারিতা বাড়াতেও বড় সিদ্ধান্ত হয়েছে। শত্রুপক্ষের রাডার নিষ্ক্রিয় করতে গ্রাউন্ড-বেসড মাল্টি-পারপাস জ্যামার এবং সেনার সমস্ত স্তরে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (RFID) ভিত্তিক ‘ডেফস্যাক’ স্মার্ট কার্ড সিস্টেম চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই বিপুল ব্যয়ের প্রায় ৯৮ শতাংশ প্রকিউরমেন্ট বা কেনাকাটাই সম্পন্ন হবে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প থেকে। সরকারের এই পদক্ষেপ ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতিকে আরও জোরালো করার পাশাপাশি দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রকে এক অভাবনীয় অর্থনৈতিক গতি জোগাবে।