গাড়ির বনেটের ভেতর লুকিয়ে ৭ ফুটের দানবীয় অজগর! মুম্বইয়ের অভিজাত আবাসনে যা হলো, দেখলে শিউরে উঠবেন

মুম্বইয়ের ব্যস্ত ও জনবহুল দহিসর এলাকায় ঘটে যাওয়া এক অদ্ভুত, অভাবনীয় এবং শিউরে ওঠার মতো ঘটনায় গোটা চত্বরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। গত শনিবার ছুটির দিনে একটি সাধারণ আবাসিক চত্বরের নিচে পার্ক করে রাখা একটি চারচাকা গাড়ির হুড বা বনেটের ভেতর থেকে প্রায় ৭ ফুট লম্বা একটি বিশালকায় অজগর সাপকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এই রোমহর্ষক দৃশ্য দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি রীতিমতো হইচই পড়ে যায়।
ঘটনাটি ঘটেছে দহিসর পশ্চিমের কান্দারপাড়া এলাকার বাপু বাগওয়ে রোডের পাশে অবস্থিত সুপরিচিত মহেশ্বর বিল্ডিংয়ের সুরক্ষিত আবাসিক চত্বরে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা সানি কাম্বলের বোনের মালিকানাধীন গাড়িটির নিচের অংশ দিয়ে আচমকা একটি বিশালাকার সাপকে ধীরে ধীরে ইঞ্জিনের ভেতরের অংশে ঢুকে পড়তে দেখতে পান এলাকার কয়েকজন কৌতূহলী বাসিন্দা। এরপর তাঁরা একটু সামনে এগিয়ে ভালো করে তাকিয়ে দেখেই ভয়ে পিছিয়ে আসেন—এটি সাধারণ কোনো ছোটোখাটো সাপ নয়, একেবারে আস্ত এক মস্ত অজগর, যা গাড়ির গরম ইঞ্জিনের ঠিক ওপরে কুণ্ডলী পাকিয়ে শুয়ে রয়েছে।
মুহূর্তের মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর খবর আবাসনের চারপাশে ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের মানুষজনের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও হুলুস্থুল কাণ্ড বেধে যায়। লোকালয়ের মাঝে এত বড় একটি বন্য সাপ কীভাবে এবং কোথা থেকে এসে পৌঁছাল, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে চরম ভয় ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। তবে আতঙ্কিত না হয়ে আবাসিকরা অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন। তাঁরা সাপটিকে কোনোভাবেই বিরক্ত করার বা আঘাত করার চেষ্টা না করে তাৎক্ষণিকভাবে পেশাদার বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারীদের খবর পাঠান।
খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছান অভিজ্ঞ বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ও উদ্ধারকারী সমীর গুপ্ত। অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায়, চরম সতর্কতার সঙ্গে এবং সুকৌশলে গাড়ির বনেট খুলে সাপটির অবস্থান খতিয়ে দেখা হয়। দেখা যায়, ইঞ্জিনের গরম যন্ত্রাংশের ঠিক পাশেই গা এলিয়ে গুটিসুটি মেরে বসে রয়েছে অজগরটি। এরপর অত্যন্ত দক্ষ হাতে বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন মেনে কোনো রকম দুর্ঘটনা ছাড়াই সেটিকে ইঞ্জিন ক্যাভিটি থেকে নিরাপদে বের করে একটি বিশেষ ব্যাগে বন্দি করেন ওই উদ্ধারকারী।
গাড়ির যন্ত্রাংশের অতিরিক্ত গরমে বা ইঞ্জিন স্টার্ট থাকার কারণে সাপটির শরীরে কোনো আঘাত বা চোট লেগেছে কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য সঙ্গে সঙ্গেই সেটির একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করা হয়। বন বিভাগের উপস্থিতিতে চিকিৎসকরা জানান যে, ৭ ফুট দীর্ঘ ওই অজগরটি পুরোপুরি সুস্থ, স্বাভাবিক এবং অক্ষত রয়েছে। এরপর আইনি প্রক্রিয়া মেনে এবং বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সাপটিকে সুরক্ষিত অবস্থায় সেখান থেকে নিয়ে গিয়ে পার্শ্ববর্তী সংরক্ষিত সঞ্জয় গান্ধী জাতীয় উদ্যানের গভীর ও নিরাপদ জঙ্গলে সফলভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়। ব্যস্ত শহরের মাঝে মাঝেই এ ধরনের বন্যপ্রাণী ঢুকে পড়ার ঘটনা পরিবেশবিদদের ভাবিয়ে তুললেও, সাধারণ মানুষের সময়োপযোগী ও সচেতন পদক্ষেপে বড়ো ধরণের বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেলেন দহিসরের বাসিন্দারা।