নোটবন্দির জমানায় ৩১ লক্ষ ক্যাশ জমা! আইটিএটের বড় রায়ে করদাতাদের স্বস্তি

নোটবন্দির সময় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ জমা করার একটি পুরনো মামলায় করদাতাদের বড়সড় স্বস্তি দিয়েছে ইনকাম ট্যাক্স আপিল ট্রাইব্যুনাল (ITAT)। ২০১৭ সালের এই নোটবাতিল পর্বে প্রায় ৩২ লক্ষ টাকা নগদ জমা করার ঘটনায় আইটিএট কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট করদাতাকে ১০.৭৮ লক্ষ টাকার বড় অঙ্কের ট্যাক্স রিলিফ প্রদান করেছে। আদালতের এই রায়ের ফলে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সাধারণ করদাতাদের স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বিচার প্রক্রিয়ার সময় ট্রিবিউনাল করদাতার পক্ষের একটি যুক্তিকে সম্পূর্ণভাবে বৈধ বলে মেনে নিয়েছে। করদাতার দাবি ছিল যে, তাঁর শাশুড়ি কর্তৃক সোনা বিক্রির মাধ্যমে প্রাপ্ত ২.৮৪ লক্ষ টাকার অর্থ বৈধ এবং সেই নগদ টাকাই ব্যাংকে জমা করা হয়েছিল। আইটিএট এই যুক্তি মেনে নিয়ে ওই নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থকে বৈধ উৎস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা করদাতার ওপর থেকে ট্যাক্সের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে।

তবে মামলার অন্য একটি দিক নিয়ে ট্রিবিউনাল কঠোর মনোভাব বজায় রেখেছে। তদন্তে দেখা যায় যে, জমা হওয়া মোট অর্থের মধ্যে ৮.৩৭ লক্ষ টাকার একটি ক্যাশ মেমো পেশ করা হয়েছিল, কিন্তু সংশ্লিষ্ট লেনদেনে কোনো সঠিক ক্রেতার পরিচয় বা বৈধ প্রমাণপত্র ছিল না। এই তথ্যের ভিত্তিতে ট্রিবিউনাল ওই নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থকে अस्पष्ट বা সন্দেহজনক বলে গণ্য করেছে এবং সেই অনুযায়ী কর ছাড়ের দাবি বাতিল করেছে। আইটিএটের এই সুষম রায়ের ফলে একদিকে যেমন করদাতার সততা প্রমাণিত হয়েছে, তেমনই নথিপত্রের স্বচ্ছতার অভাব যে বড়সড় জটিলতা তৈরি করতে পারে, তাও স্পষ্টভাবে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আর্থিক ও কর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, এই ধরনের আইনি সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে সমজাতীয় মামলাগুলির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করবে।