দলীপ ট্রফিতে ইতিহাস ইশান কিষাণের! ফাইনালে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ভাঙলেন ৩৬ বছরের পুরনো রেকর্ড

দলীপ ট্রফি ২০২৬-এর মেগা ফাইনালে ব্যাট হাতে এক অবিশ্বাস্য ও অভূতপূর্ব ইতিহাস গড়লেন ইস্ট জোনের অধিনায়ক ঈশান কিষান। চেন্নাইয়ের চিপক স্টেডিয়ামে সাউথ জোনের বিরুদ্ধে ফাইনালের ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে এক চোখ ধাঁধানো এবং অনবদ্য ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন তিনি। ঝাড়খণ্ডের এই ২৮ বছর বয়সী মারকাটারি বাঁহাতি উইকেটকিপার-ব্যাটারের চওড়া ব্যাটে তৈরি হয়েছে এক নতুন নজির। দলের চরম বিপদের মুখে পাঁচ নম্বরে ব্যাটিং করতে নেমে অত্যন্ত ধৈর্য এবং পরিপক্বতার পরিচয় দিয়ে মাত্র ২৭০ বল খেলে এই রাজকীয় ২০০ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসটি সফলভাবে পূর্ণ করেন তিনি।

এই চোখ জুড়ানো ডাবল সেঞ্চুরির সুবাদে দলীপ ট্রফির দীর্ঘ ইতিহাসের এক অতি এলিট লিস্টে নিজের নাম পাকাপাকিভাবে খোদাই করে নিলেন ঈশান কিষান। ইস্ট জোনের ক্রিকেট ইতিহাসে তিনি মাত্র তৃতীয় ব্যাটার, যিনি এই অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী ঘরোয়া টুর্নামেন্টের ফাইনালে দ্বিশতরান করার বিরল কীর্তি অর্জন করলেন। তাঁর আগে এই বিশেষ কৃতিত্ব অর্জন করতে পেরেছিলেন কেবল ভারতের দুই প্রাক্তন কিংবদন্তি ক্রিকেট তারকা—অরুণ লাল এবং সাবা করিম। পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যায়, অরুণ লাল ১৯৮৬ সালে সেন্ট্রাল জোনের বিরুদ্ধে ২১৪ রান এবং পরবর্তী সময়ে ওয়েস্ট জোনের বিরুদ্ধে ২৮৭ রানের দারুণ ইনিংস খেলেছিলেন। অন্যদিকে, ১৯৯৫ সালে প্রাক্তন তারকা উইকেটকিপার সাবা করিম ঠিক একইভাবে ২০০ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছিলেন। সবচেয়ে বড় এবং আশ্চর্যজনক কাকতালীয় বিষয় হলো, ঠিক ঈশানের মতোই অরুণ লাল ও সাবা করিম—উভয় ক্রিকেটারই যখন নিজেদের কেরিয়ারের এই দ্বিশতরানগুলো হাঁকিয়েছিলেন, তখন তাঁরা প্রত্যেকেই ইস্ট জোনের অধিনায়কের গুরুদায়িত্ব পালন করছিলেন।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ঈশান কিষান কেবল তাঁর ডাবল সেঞ্চুরিই থামিয়ে রাখেননি, বরং ইতিমধ্যেই তিনি ২৫০ রানের গণ্ডিও সফলভাবে পার করে ফেলেছেন। এখন গোটা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর রয়েছে এই বাঁহাতি তারকার দিকে—তিনি কি শেষ পর্যন্ত তাঁর এই ডাবল সেঞ্চুরিকে এক লহমায় ট্রিপল সেঞ্চুরিতে বা ত্রিশতকে রূপান্তরিত করতে পারবেন? চলতি মেগা ফাইনালে যদি তিনি কোনোভাবে ৩০০ রানের জাদুকরী গণ্ডি পার করতে সক্ষম হন, তবে দলীপ ট্রফির সুদীর্ঘ ইতিহাসে ট্রিপল সেঞ্চুরি হাঁকানো বিশ্বের মাত্র তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে নিজের নাম চিরতরে অমর করে ফেলবেন ঈশান। এর আগে দীর্ঘ ইতিহাসে কেবল রমন লাম্বা (১৯৮৭ সালে ৩২০ রান) এবং গগন খোদা (২০০১ সালে অপরাজিত ৩০০ রান) দলীপ ট্রফিতে ব্যক্তিগত ত্রিশতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেছিলেন। একজন খাঁটি অধিনায়কের মতো দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে খেলা এই দুর্দান্ত ইনিংসে ভর করে ইস্ট জোন দল এখন চলতি দলীপ ট্রফির ফাইনালে শিরোপা জয়ের অত্যন্ত মজবুত ও সুবিধাজনক অবস্থানে এসে পৌঁছাল।