ট্রাম্পের কড়া নির্দেশকে থোড়াই কেয়ার! শুরু হলো আমেরিকা-জাপান-দক্ষিণ কোরিয়ার ভয়ঙ্কর ত্রিদেশীয় যুদ্ধ মহড়া

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে সিওল ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার পূর্বনির্ধারিত যৌথ সামরিক মহড়ার আকার বা পরিধি এর আগে কিছুটা কমানো হলেও, নতুন এই ত্রিদেশীয় পদক্ষেপে তার কোনো প্রভাব পড়ল না। সোমবার থেকে আমেরিকা, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান যৌথভাবে পাঁচ দিনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বৃহৎ পরিসরের ত্রিদেশীয় সামরিক মহড়া শুরু করেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞরা।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ (JCS) কর্তৃক প্রকাশিত একটি অফিসিয়াল প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, ‘ফ্রিডম এজ’ (Freedom Edge) নামের এই বহুমাত্রিক ও আধুনিক সামরিক মহড়াটি জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণের আন্তর্জাতিক জলসীমায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। JCS-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই মহড়ার মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান—এই তিনটি দেশই জল, আকাশ এবং সাইবার জগতের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল ক্ষেত্রে তাদের অপারেশনাল দক্ষতা এবং যৌথভাবে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে। এর পাশাপাশি, এই তিন বন্ধুভাবাপন্ন দেশের মধ্যে একটি শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীল সহযোগিতার সম্পর্ক বজায় রাখতেও এটি সাহায্য করবে।

ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সির প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে এই মহড়ায় তিনটি দেশের নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধান এবং এলিট ইউনিটগুলো সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়াটি যাতে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, সুসংগঠিত ও সুরক্ষিতভাবে সম্পন্ন হতে পারে, তার জন্য একটি বিশেষ যৌথ কন্ট্রোল গ্রুপও গঠন করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার ক্রমাগত পারমাণবিক ও সামরিক হুমকি রুখতে এটি একটি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। JCS স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এই মহড়াটি আন্তর্জাতিক আইন ও প্রটোকল মেনে আয়োজিত একটি নিয়মিত বার্ষিক আত্মরক্ষামূলক কর্মসূচি, যার মূল লক্ষ্য পিয়ংইয়ংয়ের আগ্রাসী নীতি প্রতিহত করা।