পুজোর আগেই পকেট ভারী! রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০% ডিএ ও অগ্রিম বেতনের ঐতিহাসিক ঘোষণা

ক্ষমতায় আসার পর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের (Government Employees) জন্য মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) বৃদ্ধির বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান বিজেপি সরকার। সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট থেকেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য একলাফে ২০ শতাংশ হারে ডিএ বৃদ্ধির ঐতিহাসিক ঘোষণা করা হয়েছিল, যা আগামী ১ অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে চলেছে। এই বর্ধিত ডিএ হাতে পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ কর্মী। ঠিক এমন এক আনন্দের আবহেই মহার্ঘ ভাতা নিয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

সম্প্রতি নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত জমকালো রাজ্যের শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই সুসংবাদ শোনান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, আসন্ন দুর্গাপুজোর মাসের অগ্রিম বেতনের সঙ্গেই বর্ধিত হারে এই ২০ শতাংশ ডিএ যুক্ত হয়ে কর্মচারীদের হাতে পৌঁছাবে। শুধু সাধারণ সরকারি কর্মীরাই নন, এই বিশেষ বর্ধিত ডিএর সম্পূর্ণ সুবিধা পাবেন রাজ্যের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও। এর পাশাপাশি কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যকার ডিএ-র দীর্ঘদিনের ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হবে এবং অতীতের সমস্ত বকেয়া অর্থও ধীরে ধীরে ধাপে ধাপে মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে সরকারি কর্মীদের জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী রাজ্য সরকারের কর্মচারীদের প্রতি মাসের শেষ কার্যদিবসে বা ওয়ার্কিং ডে-তে বেতন প্রদান করা হয়ে থাকে। অন্যদিকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রে বেতন দেওয়া হয় সাধারণত পরের মাসের প্রথম তারিখে। তবে দুর্গাপুজোর মতো উৎসবের মরশুমে বরাবরই অগ্রিম বেতন দেওয়ার প্রথা প্রচলিত রয়েছে। বর্তমান বিজেপি সরকারের আমলেও সেই সুপ্রাচীন ও জনমুখী রীতি পুরোপুরি বজায় রাখা হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী নিজে জানিয়েছেন। চলতি বছর দুর্গাপুজোর সরকারি ছুটি যেহেতু আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে, তাই ১৩ বা ১৪ তারিখেই সমস্ত কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের মাইনে অগ্রিম হিসেবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে। আর ঠিক সেই অগ্রিম বেতনের সঙ্গেই বর্ধিত ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতার টাকা যুক্ত হয়ে থাকবে।

মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে বক্তব্যে বলেন, ‘আপনাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের বর্তমানে ডিএ-র যে ফারাক রয়েছে, তা আমরা বুঝতে পারছি। আমরা পুজোর আগেই অ্যাডভান্স বেতন দেব, এবং সেই বেতন ২০ শতাংশ ডিএ অ্যাডিশনাল বা অতিরিক্ত করেই দেওয়া হবে।’ শুধু তাই নয়, নতুন পে কমিশন গঠনের বিষয়েও বড় আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে সরকার ইতিমধ্যেই সপ্তম পে কমিশন গঠন করে দিয়েছে। কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তা কার্যকর করার উদ্দেশ্যে সমস্ত প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কারণ লাগামছাড়া দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির এই যুগে সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান কর্তব্য।

মুখ্যমন্ত্রীর এই যুগান্তকারী ও মাস্টারস্ট্রোক ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই খুশির হাওয়া বইছে রাজ্য সরকারি কর্মী মহলে। কারণ উৎসবের ঠিক আগে পকেটে অতিরিক্ত টাকা চলে এলে পুজোর খরচ সামাল দেওয়া অনেকটাই সহজ হবে। ছেলেমেয়েদের নতুন পোশাক কেনা থেকে শুরু করে দুর্গাপুজোর অন্যান্য সাংসারিক খরচ—সব ক্ষেত্রেই এই বাড়তি টাকা বিরাট স্বস্তি আনবে। পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যেও এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের ডিএ আন্দোলন ও বকেয়া পাওনার টানাপোড়েনের পর অবশেষে পুজোর মরশুমে এই বড় আর্থিক স্বস্তি সরকারের ভাবমূর্তিকেই যে উজ্জ্বল করবে, তা বলাই বাহুল্য।