নোটিস ছাড়াই দলের সাইনবোর্ড হাওয়া! কপিল সিব্বলের সওয়ালের পর সুপ্রিম কোর্ট যা বলল, জানলে চমকে উঠবেন

তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ের সাইনবোর্ড ও নামফলক অপসারণ সংক্রান্ত বিতর্কে সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে মামলাটি পুনরায় কলকাতা হাইকোর্টে ফেরত পাঠিয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি. মোহনার সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছেন। দেশের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট সমস্ত আইনি প্রশ্ন ও অভিযোগগুলি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে বিবেচনা করার জন্য কলকাতা হাইকোর্টকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে।
এদিনের শুনানিতে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ তথা বিশিষ্ট আইনজীবী কপিল সিব্বল অত্যন্ত জোরালো সওয়াল করেন। তিনি আদালতকে জানান, ‘‘যে ভবনটি লিজ নেওয়া হয়েছে এবং যেখানে দলের নিয়মিত কার্যক্রম ও অফিস পরিচালিত হয়, সেখানে কি একটি রেজিস্টার্ড রাজনৈতিক দলের সাইনবোর্ড বা বোর্ড রাখা যাবে না? প্রশাসন আমাদের দলের বোর্ড হুট করে খুলে ফেলেছে, অথচ পাশের একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হলদিরামের বোর্ড কিন্তু স্পর্শ করা হয়নি।’’ তাঁর অভিযোগ ছিল, যখন তাঁরা প্রথম কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন, তখন হাইকোর্ট কোনো নোটিশ দেওয়া হয়েছিল কি না, সেই গুরুত্বপূর্ণ দিকটি যাচাই না করেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল।
উভয়পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, তাঁরা এই মুহূর্তে মামলাটি সরাসরি খারিজ করছেন না, বরং আবেদনকারীদের পুনরায় কলকাতা হাইকোর্টের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, সাইনবোর্ড ইতিমধ্যেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেই যে সমস্ত অভিযোগের আইনি নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে, তা একেবারেই সঠিক নয়। যদি আবেদনকারীর দাবি বা অভিযোগ গ্রহণযোগ্য হয়, তবে হাইকোর্টকে অবশ্যই সেই বিষয়টি নতুন করে শোনার ও উত্থাপন করার পূর্ণ সুযোগ দিতে হবে।
শুনানি চলাকালীন আইনজীবী কপিল সিব্বল ফের আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান যে, এটি একটি সম্পূর্ণ নথিভুক্ত ও বৈধ রাজনৈতিক দল। ভবনটিতে দলের নাম ও প্রতীক প্রদর্শিত ছিল, অথচ কোনো ধরনের পূর্ব নোটিস ছাড়াই তা জোরপূর্বক সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে যেভাবে নিয়ম মানা হয়, এক্ষেত্রে তার ব্যত্যয় ঘটেছে। এই প্রেক্ষাপটে বিচারপতি ভি. মোহনা পর্যবেক্ষণ করেন যে, কলকাতা হাইকোর্ট চাইলে বিষয়গুলি পুনরায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করতে পারে এবং সর্বোচ্চ আদালত সেই অনুযায়ী হাইকোর্টকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছে।