শিক্ষক থেকে মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬ বিজয়ী, জোহেরি মোলার অবিশ্বাস্য জীবনযুদ্ধের চাঞ্চল্যকর তথ্য!

ডোমিনিকান রিপাবলিকের জোহেরি মোলা ডমিঙ্গুয়েজ চমৎকার নৈপুণ্য প্রদর্শন করে ‘মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬’-এর খেতাব জয় করেছেন। ভিয়েতনামের আয়োজিত এই জমকালো অনুষ্ঠানে চূড়ান্ত পর্বে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সুন্দরীরা অংশ নিয়েছিলেন। বর্তমান মিস ওয়ার্ল্ড ওপাল সুচাটা চুয়াংশ্রী নিজে জোহেরি মোলাকে ‘মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬’-এর মুকুট পরিয়ে দেন। মুকুট পরার সময় জোহেরিকে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ দেখাচ্ছিল এবং তাঁর মুখে জয়ের আনন্দ স্পষ্ট ফুটে উঠেছিল। প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই জোহেরি মোলা তাঁর সৌন্দর্য, আত্মবিশ্বাস এবং আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব দিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করেছিলেন। বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে তিনি চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছন এবং শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত মুকুটটি জয় করতে সক্ষম হন।
এই প্রতিযোগিতায় স্পেনের এলিজাবেথ রেয়েস আলাবের্ন প্রথম রানার-আপ হয়েছেন। পুরো আয়োজনজুড়ে তিনি চমৎকার পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেন এবং চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলেন। পাশাপাশি, মালয়েশিয়ার তানুসিয়া চেটি দ্বিতীয় রানার-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এভাবেই ডোমিনিকান রিপাবলিক, স্পেন এবং মালয়েশিয়ার সুন্দরীরা ‘মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬’-এর শীর্ষ তিনটি স্থান নিজেদের দখলে নেন। এই জয়ের মাধ্যমে ডোমিনিকান রিপাবলিক মর্যাদাপূর্ণ ‘মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬’ খেতাবটি অর্জন করেছে।
এবারের মুকুটটি একটি বিশেষ ঐতিহাসিক তাৎপর্য বহন করছে। ২০২৬ সালের চূড়ান্ত পর্বটি যেমন ৭৩তম ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ মুকুট পরানোর অনুষ্ঠান, তেমনি এটি এই প্রতিযোগিতার ৭৫ বছর পূর্তিও উদযাপন করছে, যার যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৫১ সালে লন্ডনে। এই মাইলফলক-সমৃদ্ধ আয়োজনটি সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে সৌন্দর্যের মানদণ্ডের পরিবর্তন, বিশ্বব্যাপী প্রতিনিধিত্ব এবং এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার বিবর্তনের সাক্ষ্য বহন করে।
জোহেরি একজন শিক্ষক, সংবাদ প্রতিনিধি এবং মডেল, যিনি সামাজিক উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ। ‘মিস ওয়ার্ল্ড’-এ তাঁর প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি ‘ভয়েসেস অফ টুমরো’ (Voices of Tomorrow) নামে একটি উদ্যোগ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই উদ্যোগটি সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর শিশু ও তরুণদের ইংরেজি শিক্ষার প্রসারে কাজ করে। তাঁর ব্যক্তিগত মূলমন্ত্রটি সেই দর্শনেরই প্রতিফলন: “সবচেয়ে বড় যে উপহারটি আপনি কাউকে দিতে পারেন, তা হল এমন একটি সুযোগ যা নিজের জীবনে উন্নতি করতে, সামনে এগিয়ে যেতে এবং জীবনকে বদলে ফেলতে একসময় আপনার নিজেরও প্রয়োজন হয়েছিল।”
তাঁর লুকও ছিল দেখার মতো অন্যরকম। এবারের মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্বের সময় উগান্ডার প্রতিনিধি এল মুহোজা তাঁর পোশাকের মাধ্যমে এক জোরালো বার্তা দিয়ে শিরোনামে উঠে আসেন। ডিজাইনার কিশা আবদুল্লাহর তৈরি ‘দ্য লেয়ার্স অফ লাইফ’ নামের একটি বিশেষ পোশাক পরেছিলেন তিনি। সি-সেকশন বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের সময় চিকিৎসকদের শরীরের যে সাতটি স্তর ভেদ করতে হয়, এই পোশাকটি মূলত সেগুলিরই প্রতিনিধিত্ব করছিল। পোশাকটিতে সাদা, হলুদ, গোলাপি ও লাল রঙের কাপড়ের বিভিন্ন স্তর ছিল, যা সি-সেকশনের সময় কাটা স্তরগুলোর যেমন- ত্বক, চর্বি, ফাসিয়া, রেকটাস পেশী, পেরিটোনিয়াম, জরায়ুর পেশী এবং অ্যামনিওটিক থলি চিত্রণ বা নকশা অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছিল।
‘সি-সেকশন বা অস্ত্রোপচারের সময় শরীরের বিভিন্ন স্তরের যে অভিজ্ঞতা হয় এবং আরও বৃহত্তর অর্থে বলতে গেলে পৃথিবীতে নতুন প্রাণ নিয়ে আসার যে অসাধারণ যাত্রা তা থেকেই এই ধারণার অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে,’ ইনস্টাগ্রামে ব্যাখ্যা করেছেন ডিজাইনার। প্রতিটি রঙ ও স্তর বেছে নেওয়া হয়েছে সেই গল্পের কোনও একটি পর্যায়, গঠনবিন্যাস বা রূপান্তরকে তুলে ধরার জন্য, কোনও নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নয়।
এদিকে, ভারতের নিকিতা পোরওয়াল সেরা ৪০-এর তালিকায় পৌঁছলেও সেরা ২০-এ জায়গা করে নিতে পারেননি। ফলে এই প্রতিযোগিতায় ভারতের যাত্রাও সেরা ৪০-এর ধাপেই শেষ হয়ে যায়। উজ্জয়িনীতে জন্ম নেওয়া নিকিতা মডেলিংয়ের পাশাপাশি অভিনয় ও থিয়েটার জগতের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। তিনি অসংখ্য নাট্য প্রযোজনায় কাজ করেছেন এবং জানা যায় যে, তিনি ৬০টিরও বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন।