ফাইনালে রিঙ্কুর চরম মেজাজ! নিজের ১ রানের ব্যর্থতা ভুলে সতীর্থকে প্যাভিলিয়নে বসে যা শোনালেন অধিনায়ক!

ইউপি টি-টোয়েন্টি লিগের ফাইনালে ভুবনেশ্বর কুমারের লখনউ ফ্যালকনসকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের জন্য চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে রিঙ্কু সিংয়ের নেতৃত্বাধীন দল মেরঠ ম্যাভেরিকস। গোটা টুর্নামেন্টে রিঙ্কুর অসাধারণ নেতৃত্ব এবং ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্ত সকলের নজর কাড়লেও, ফাইনাল ম্যাচের একটি বিশেষ ঘটনা বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের বেগে ভাইরাল হয়ে উঠেছে। নিজে ব্যাট হাতে মাত্র ১ রান করে দ্রুত আউট হয়ে গেলেও, দলের টেল-এন্ড বা নিচের সারিতে নেমে ১৩ রান করা এক সতীর্থ ব্যাটারকে প্যাভিলিয়নে ফেরার পর প্রকাশ্যে ভর্ৎসনা করতে দেখা যায় অধিনায়ক রিঙ্কুকে। তাঁর এই কঠোর ও আক্রমণাত্মক রূপ ক্রিকেট মহলে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ম্যাচের হাইভোল্টেজ পরিস্থিতিতে মেরঠের ইনিংস চলাকালীন ১২ বলে ১৩ রান করে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন দিব্যাংশ রাজপুত। কিন্তু তাঁর এই দায়িত্বজ্ঞানহীন শট খেলে আউট হওয়ার বিষয়টি অধিনায়ক রিঙ্কু সিং কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি। ডাগআউটে ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই মেজাজ হারিয়ে দিব্যাংশের ওপর নিজের ক্ষোভ উগড়ে দেন ক্ষুব্ধ অধিনায়ক। দলের জয়ের আনন্দ ছাপিয়ে রিঙ্কুর এই রাগ দেখানোর মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে তা নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।
তবে রিঙ্কুর সেই ক্ষোভের কড়া জবাব ব্যাট হাতে দেন দিব্যাংশ জোশি, যিনি ফাইনালে এক ঐতিহাসিক ও অবিশ্বাস্য সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ম্যাচের রং সম্পূর্ণ বদলে দেন। অভিজ্ঞ পেসার ভুবনেশ্বর কুমারের নেতৃত্বাধীন শক্তিশালী লখনউ বোলিং আক্রমণকে পুরোপুরি ধুলিসাৎ করে দিয়ে দিব্যাংশ জোশি মাত্র ৪০ বলের মোকাবিলায় ১০৫ রানের এক বিধ্বংসী ও রূপকথার মতো ইনিংস খেলেন। তাঁর এই অনবদ্য ইনিংসে সাজানো ছিল ১২টি চোখ ধাঁধানো চার এবং ৭টি গগনচুম্বী ছক্কা। ভুবির মতো আন্তর্জাতিক বোলারদের বিরুদ্ধে তরুণ এই ব্যাটারের নির্ভীক ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সুবাদে মেরঠ ম্যাভরিক্স নির্ধারিত ২০ ওভারের শেষে ৭ উইকেটের বিনিময়ে ২০৪ রানের এক পাহাড়প্রমাণ লক্ষ্যমাত্রা দাঁড় করাতে সক্ষম হয়।
২০৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ফাইনালের চাপে শুরু থেকেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে লখনউ ফ্যালকনসের ব্যাটিং লাইনআপ। অভিজ্ঞ ভুবনেশ্বর কুমারের দল মেরঠের নিয়ন্ত্রিত বোলিং আক্রমণের সামনে কার্যত আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। দলের হয়ে একমাত্র অজিত ভার্মা লড়াই চালানোর চেষ্টা করলেও ২৪ বলে তাঁর খেলা ৩৯ রানের ঝোড়ো ইনিংসটি দলের পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। একটি দুর্ভাগ্যজনক রান-আউটের সুবাদে লখনউয়ের জয়ের শেষ আশাটুকুও চিরতরে নিভে যায়। সবমিলিয়ে, রিঙ্কু সিংয়ের আগ্রাসী নেতৃত্ব, দিব্যাংশ জোশির চোখ জুড়ানো সেঞ্চুরি এবং একপেশে ফাইনাল জয়ের মাধ্যমে ইউপি টি-টোয়েন্টি লিগের এই আসর ইতিহাসে নিজের নাম চিরকালের মতো খোদাই করে নিল।