আজ থেকেই মিলবে বর্ধিত সামাজিক সুরক্ষা ভাতা! কাদের কপাল খুলল? জেনে নিন বিশদে

কথা রাখল রাজ্য সরকার। কথামতোই রাজ্যে বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের ভাতা এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে দেড় হাজার টাকা করা হল। সোমবারেই নবান্ন সভাঘরে এই বর্ধিত ভাতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে এবার বড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন।
সূত্রের খবর, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর থেকেই বর্ধিত হারে সামাজিক সুরক্ষা ভাতার টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু করেছে রাজ্য সরকার। এই খাতে মোট ভাতার পরিমাণ ১৪ হাজার ৭৭০ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা। রাজ্যের মোট ৮২ লক্ষ ৫ হাজার যোগ্য উপভোক্তা এই সুবিধার আওতায় আসছেন। সমাজকল্যাণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন ও পুরনো মিলিয়ে ৮২ লক্ষের ওপর উপভোক্তা এখন থেকে প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলিতে ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়। আগে বার্ধক্য, বিধবা ও দিব্যাঙ্গ ভাতার পরিমাণ ছিল মাসে ১,০০০ টাকা। সেই অঙ্ক ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করে সরাসরি ১,৫০০ টাকা করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ভাতা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর আগে সমস্ত তথ্য সরকারি নথির সঙ্গে নিখুঁতভাবে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রকৃত উপভোক্তারাই যাতে এই আর্থিক সুবিধা পান, সেই লক্ষ্যেই সুনির্দিষ্ট যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর সরাসরি ডিবিটি (Direct Benefit Transfer) মাধ্যমে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত অগাস্ট মাসের শেষের দিকেই নবান্ন থেকে বার্ধক্য ও বিধবা ভাতা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলের সংকল্পপত্রে বার্ধক্য, বিধবা ও বিশেষ করে সক্ষম মানুষদের ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর জোরালো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ভোটে জয়লাভ করে সরকার গঠনের পরই সেই প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় প্রশাসন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, পূর্ববর্তী সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের ৮০০ টাকা এবং নিজেদের রাজ্যের ২০০ টাকা মিলিয়ে মোট ১,০০০ টাকা করে বার্ধক্য, বিধবা এবং প্রতিবন্ধী ভাতা দিত। বর্তমান সরকার সেই অঙ্ক বাড়িয়ে এক লাফে দেড় হাজার টাকা করে দিল। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনকল্যাণ শিবির ও বিভিন্ন মাধ্যমে আসা লক্ষ লক্ষ পিটিশন ও আবেদনপত্র স্ক্রুটিনি এবং শর্টিংয়ের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। ব্যাক অফিসের সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ধাপে ধাপে আরও অনেক যোগ্য আবেদনকারীকে এই প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা হবে। সরকারের এই জনমুখী পদক্ষেপে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও বয়স্ক মানুষরা যে আর্থিকভাবে অনেকটাই উপকৃত হবেন, তা বলাই বাহুল্য।