দেব-জিৎ-প্রসেনজিতের মেগা পারফরম্যান্স! মহানায়কের জন্মশতবার্ষিকীতে তারার মেলায় জমজমাট ‘উত্তম ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’

টালিগঞ্জে মহানায়কের মূর্তিতে মাল্যদান, কেক কাটিং এবং পায়েস খাওয়ার মধ্য দিয়ে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে সম্পন্ন হল চার দিনব্যাপী ‘উত্তম ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’। মহানায়কের জন্মশতবর্ষের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে খাস মুম্বই থেকে কলকাতা উড়ে এসেছিলেন প্রবীণ অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়। উৎসবের শুরু থেকে শেষ দিন পর্যন্ত তাঁর উপস্থিতি এবং মহানায়কের সঙ্গে কাটানো সোনালী স্মৃতির রোমন্থন অনুষ্ঠানে এক অন্য মাত্রা যোগ করে। এই চলচ্চিত্র উৎসবে মহানায়ক উত্তম কুমার অভিনীত অসংখ্য ক্লাসিক ছবির পাশাপাশি প্রদর্শিত হয় তাঁর নিজের নির্দেশনায় তৈরি একমাত্র বাংলা সিনেমা ‘বনপলাশীর পদাবলী’।

উৎসবের সমাপনী দিনে কলকাতার মঞ্চে ছিল এক বিরাট চমক। রূপঙ্কর বাগচী, ইমন চক্রবর্তী, রাঘব চট্টোপাধ্যায়, অরিত্র দাশগুপ্ত এবং বাপি লাহিড়ীর পৌত্রের মতো বিশিষ্ট শিল্পীদের কণ্ঠে মহানায়কের অমর সব ছবির গান দর্শকদের নস্টালজিয়ায় ভাসিয়ে দেয়। পাশাপাশি, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, আবির চট্টোপাধ্যায়, গৌরব চট্টোপাধ্যায়, দিতিপ্রিয়া রায়, স্বস্তিকা দত্ত থেকে শুরু করে দেব, জিৎ এবং প্রসেনজিতের মতো তারকারা জমজমাট নৃত্য ও অভিনয়ে গোটা মঞ্চ মাতিয়ে রাখেন। ‘ছদ্মবেশী’, ‘নিশিপদ্ম’, ‘সন্ন্যাসী রাজা’ কিংবা ‘আনন্দ আশ্রম’-এর মতো চিরসবুজ ছবির গান ও নাচের পারফরম্যান্সে বুঁদ হয়ে থাকে পুরো দর্শকাসন। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের আহ্বানে সমস্ত শিল্পী একসঙ্গে মঞ্চে এসে মহানায়কের প্রতিকৃতিতে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম জানিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

উত্সবের মঞ্চ থেকে নিউটাউনে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি অত্যাধুনিক ‘উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টার’ তৈরির ঐতিহাসিক ঘোষণা করা হয়। এছাড়া ডাকটিকিট, খাম ও স্মারক মুদ্রা প্রকাশ থেকে শুরু করে মহানায়কের বিভিন্ন সিনেমার পোস্টার ও বিজ্ঞাপনের প্রদর্শনী এই আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট মন্ত্রী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। অভিনেতা-বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ জানান যে মহানায়কের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে এই উৎসবের সমাপ্তি হলেও সারা বছর ধরেই বিভিন্ন গঠনমূলক কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে। সবশেষে মহানায়কের পুত্রবধূ মহুয়া চট্টোপাধ্যায়ের আবেগঘন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এই মহা উৎসবের সফল সমাপ্তি ঘটে।