শুকনো গাছ থেকে ক্যাকটাস! অন্দরের এই ভুল গাছগুলিই ডেকে আনছে দারিদ্র্য ও অশান্তি?

বাড়ি-ঘর সুন্দর ও সতেজ রাখতে অনেকেই নানা ধরনের ইনডোর প্ল্যান্ট বা অন্দরের গাছপালা দিয়ে ঘর সাজাতে ভালোবাসেন। গাছপালা কেবল ঘরের অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে না, বরং পরিবেশকেও সতেজ ও প্রাণবন্ত করে তোলে। তবে বাস্তুশাস্ত্রে গাছপালা ও তার পরিচর্যা নিয়ে অত্যন্ত নির্দিষ্ট ও কঠোর কিছু নিয়মের কথা বলা হয়েছে। বাড়ির সৌন্দর্য বাড়ানোর নেশায় আপনি হয়তো এমন কিছু গাছ ঘরে সাজিয়ে রাখছেন, যা বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে চরম অনুপযুক্ত এবং অকল্যাণকর। বাড়িতে গাছপালা থাকলে নিয়মিত তাদের শারীরিক অবস্থা ও সতেজতা পরীক্ষা করে দেখা অত্যন্ত জরুরি।
শুকনো বা নেতিয়ে পড়া গাছ
বাড়ির কোনো গাছ যদি দীর্ঘদিন ধরে শুকিয়ে যেতে থাকে কিংবা তার পাতা ক্রমাগত নেতিয়ে পড়তে শুরু করে, তবে সেটিকে অবিলম্বে বাড়ি থেকে সরিয়ে ফেলা উচিত। বাস্তুশাস্ত্রের মতে, শুকনো ও মরা গাছপালা জীবনে স্থবিরতা এবং আটকে থাকার প্রতীক। অন্যদিকে, বাস্তবিকভাবেও মরা গাছপালা ঘরের পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য নষ্ট করে। তাই নিয়মিত গাছের শুকনো পাতা বা ডাল ছেঁটে ফেলা উচিত। যদি কোনো গাছ সম্পূর্ণ মরে যায় এবং তার আর বেঁচে ওঠার কোনো রকম আশা না থাকে, তবে সেটিকে টবসহ বাড়ি থেকে বের করে ফেলাই শ্রেয়।
কাঁটাযুক্ত গাছ এবং ক্যাকটাস
বাস্তুশাস্ত্রে ক্যাকটাস ও অন্যান্য কাঁটাযুক্ত গাছ ঘরের ভেতরে রাখার ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশ্বাস করা হয় যে, কাঁটাযুক্ত গাছপালা বাড়ির অন্দরে মানসিক চাপ, অশান্তি বা নেতিবাচক শক্তির প্রতীক হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ঘরের মূল দরজার কাছে, প্রবেশপথে কিংবা বসার ঘরে এই ধরনের গাছ রাখা সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা উচিত।
দুধের মতো রসযুক্ত উদ্ভিদ
কিছু বিশেষ প্রজাতির গাছের ডাল বা পাতা ভাঙলে সেখান থেকে আঠালো সাদা বা দুধের মতো তরল রস নির্গত হয়। এই ধরনের উদ্ভিদ, যেমন ইউফরবিয়ার কিছু প্রজাতি, ঘরের ভেতরে রাখা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। বাস্তু মতে, এই ধরনের গাছ ঘরের পরিবেশের জন্য শুভ নয়।
দেয়ালে ছড়িয়ে পড়া লতা
বাড়ির বাইরের বা ভেতরের দেয়ালে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া লতানো গাছ দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় লাগতে পারে, তবে বাস্তুশাস্ত্রে এর কিছু নেতিবাচক দিক রয়েছে। মনে করা হয়, দেয়ালে এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে পড়া লতা পারিবারিক জীবনে স্থবিরতা বা মানসিক বিভ্রান্তির প্রতীক হতে পারে। শুধু তাই নয়, বাস্তবিকভাবেও দেয়ালে জড়িয়ে থাকা লতা ও তার শিকড় ঘরের দেওয়ালে অতিরিক্ত আর্দ্রতা বাড়াতে পারে, দেওয়ালের রঙের অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে এবং স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের কারণে পোকামাকড়ের উপদ্রব ঘটাতে পারে।
নকল বা কৃত্রিম গাছপালা
আজকাল অন্দরসজ্জা বা ইন্টেরিয়র ডিজাইনিংয়ের জন্য প্লাস্টিক ও কাপড়ের তৈরি কৃত্রিম গাছ বা আর্টিফিশিয়াল প্ল্যান্ট ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এগুলিতে জল দেওয়ার বা সূর্যের আলোর কোনো প্রয়োজন হয় না বলে এদের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত সহজ। কিন্তু বাস্তুশাস্ত্রের নীতি অনুযায়ী, কৃত্রিম গাছপালাকে কখনই জীবন্ত ও প্রাকৃতিক সবুজের বিকল্প হিসেবে মান্যতা দেওয়া হয় না। ঘরে পজিটিভ এনার্জি বজায় রাখতে সবসময় আসল ও সতেজ গাছ রাখার ওপরই জোর দেওয়া হয়েছে।