শান্তি আলোচনার টেবিলে রক্তপাতের হোলি! ১০৮টি ড্রোনের ভয়াবহ হামলায় কাঁপল ইউক্রেন!

শান্তি আলোচনার কূটনৈতিক তৎপরতা এবং মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে সাময়িক বিমান হামলা স্থগিত রাখার ঘোষণার মাঝেই ইউক্রেনে ভয়াবহ আক্রমণ চালাল রাশিয়া। ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত রাতে ইউক্রেনের ওপর একযোগে ১০৮টি ড্রোন ও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে জোরালো হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এই রক্তক্ষয়ী হামলায় অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৬৯ জন। ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী এস-৮০০০ ব্যান্ডেরোল ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে ৮২টি ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করলেও, ১১টি স্থানে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হেনেছে।

এদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বর্তমানে চরমে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইউক্রেনীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্যে রবিবার সরাসরি কিয়েভে এসে পৌঁছেছেন। এর আগে মস্কোয় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ম্যারাথন বৈঠক সেরেছেন তাঁরা। হোয়াইট হাউসের তরফে এই বৈঠককে ইতিবাচক বলা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় যুদ্ধবিরতির চুক্তি সামনে আসেনি।

মার্কিন মধ্যস্থতার জেরে রাজধানী কিয়েভ ও মস্কোর ওপর সাময়িক বিমান হামলা স্থগিত রাখার একটি সীমিত সমঝোতা হয়েছিল। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন যে মধ্যরাত থেকে আগামী তিন দিন রুশ সেনা কিয়েভে কোনো হামলা চালাবে না। অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও ৭ সেপ্টেম্বর শেষ পর্যন্ত মস্কোতে হামলা না চালানোর কথা ঘোষণা করেছেন। তবে কিয়েভ শহরে সাময়িক বিরতি থাকলেও ইউক্রেনের অন্যান্য প্রান্তে রুশ বাহিনীর লাগাতার বিমান ও ড্রোন হামলা থামেনি। জেলেনস্কি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি তুললেও দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ এখনও যথেষ্ট অনিশ্চিত বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।