ওলা-উবার চালক ও ডেলিভারি বয়দের জন্য বিরাট সুখবর! বড় পরিবর্তন আসছে নিয়মাবলীতে?

ভারতের গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন নিয়মনীতি চালুর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সামাজিক সুরক্ষা আইন, ২০২০-এর অধীনে ওলা, উবারের মতো রাইড-হেইলিং এবং বিভিন্ন ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্দিষ্ট হারে চাঁদা দেওয়ার নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের লাখ লাখ ক্যাব চালক এবং ডেলিভারি বয়দের সামাজিক সুরক্ষা তহবিলের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র।

বর্তমানে এই চাঁদা আদায়ের পদ্ধতি নিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে। সরকারের চিন্তাভাবনায় মূলত দুটি বিকল্প রয়েছে—কোম্পানিগুলোর বার্ষিক টার্নওভারের ভিত্তিতে চাঁদা নির্ধারণ, কিংবা গ্রাহকদের দেওয়া পেমেন্ট বা লেনদেন-ভিত্তিক মডেল। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো গিগ কর্মী একটি আর্থিক বছরে একক কোনো প্ল্যাটফর্মে ৯০ দিন অথবা একাধিক প্ল্যাটফর্মে মোট ১২০ দিন কাজ করলেই এই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি পেমেন্ট বা লেনদেন-ভিত্তিক পদ্ধতি চূড়ান্ত হয়, তবে যে সমস্ত সংস্থায় লেনদেনের সংখ্যা বেশি কিন্তু প্রতি অর্ডারের বা রাইডের মূল্য কম, তাদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। কোডের ধারা ১১৪(৪) অনুযায়ী, অ্যাগ্রিগেটরদের তাদের বার্ষিক টার্নওভারের ১ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত অবদান রাখতে বলা হতে পারে। বিকল্প হিসেবে কর্মীদের প্রদত্ত মোট অর্থের ওপর সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত চাঁদা ধার্য করার কথাও ভাবা হচ্ছে। এই নতুন নিয়ম কার্যকর হলে একদিকে যেমন ফুড ডেলিভারি ও রাইড-হেইলিং সংস্থার খরচ বাড়বে, তেমনই দীর্ঘমেয়াদে গিগ কর্মীদের কাজের সুরক্ষা ও ভবিষ্যৎ অনেকটাই নিশ্চিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।