কুকুর-বিড়ালের জন্য রাজকীয় অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়া! লিমেউজিন গাড়ি থেকে ফুলের সাজ—লাফিয়ে বাড়ছে কোটি টাকার এই নতুন ইন্ডাস্ট্রি!

চীনে এখন কুকুর বা বিড়াল কেবল গৃহপালিত প্রাণী নয়, বরং তারা হয়ে উঠেছে গোটা পরিবারের একটি অংশ। আর তাই পরিবারের সেই সদস্যটির মৃত্যুর পর তাকে সাধারণ আবর্জনার মতো ফেলে না দিয়ে অত্যন্ত সম্মানজনক ও জাঁকজমকপূর্ণ উপায়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার প্রবণতা দেশটিতে হু হু করে বাড়ছে। এর ফলেই চীনে বর্তমানে দারুণভাবে ফুলেফেঁপে উঠেছে পেট ফ्यूनरल ইন্ডাস্ট্রি (Pet Funeral Business)। তবে এই ইমোশনাল ব্যবসার আড়ালে কড়া নিয়ম ও স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এই অদ্ভুত ও লাভজনক ব্যবসার বিশেষ দিকগুলি:
রাজকীয় প্যাকেজ ও খরচ: সাধারণ কবর দেওয়া বা পোড়ানোর দিন এখন শেষ। বর্তমান সময়ে পোষ্যের অন্ত্যেষ্টির জন্য ফুলের সাজ, প্রাইভেট রুম, ছবির ফ্রেম, এমনকি পঞ্জা ছাপ স্মারক পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে। শহরগুলিতে এই হাই-এন্ড প্যাকেজের খরচ প্রায় ১৫০০ ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় ১.২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে। এই প্যাকেজে শবাধারের জন্য লিমেউজিন গাড়ি এবং ইউনিফর্ম পরা লোকজনের অন্তিম যাত্রায় শামিল হওয়ার ব্যবস্থাও থাকে।
একা মানুষের আবেগকে কাজে লাগাচ্ছে বাজার: শহরাঞ্চলে একা থাকা বহু মানুষের কাছে তাদের পোষ্যই একমাত্র বন্ধু। তাই ২০২০ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, পোষ্যের সঙ্গে যার আবেগ যত বেশি গভীর, সে তার শেষ বিদায়কে ততটাই স্পেশ্যাল করতে চায়। মানুষ এখন পশুর শেষকৃত্যে টাকা জল ঢালার মতো খরচ করতেও পিছপা হচ্ছে না।
নিয়ম ও স্বচ্ছতার অভাব: ব্যবসা বাড়লেও এই সেক্টরে সরকারের সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়ন্ত্রণ বা গাইডলাইন নেই। শহরভেদে লাইসেন্স ও পরিবেশের নিয়ম আলাদা হওয়ায় গ্রাহকদের মনে বড়সড় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সত্যি সত্যিই পোষ্যের আলাদা শেষকৃত্য হচ্ছে কি না, কিংবা যে ছাই ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে তা আদতে তারই কি না—তা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগও উঠছে। অনেক জায়গায় আবার কোনো লাইসেন্স ছাড়াই বেআইনিভাবে এই ব্যবসা চলছে।
মানুষের আবেগ এবং ভালোবাসাকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা এই নতুন ইন্ডাস্ট্রি সমাজ বদলের ইঙ্গিত দিলেও, এর অস্বচ্ছতা নিয়ে বর্তমানে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।