অপরাধ নিয়ে কথা বলতেন টিভিতে, উপস্থাপক নিজেই পেলেন ফাঁসির সাজা!

টেলিভিশনের পর্দায় বসে সুরক্ষার বার্তা এবং অপরাধের নানা চাঞ্চল্যকর ঘটনা নিয়ে আলোচনা করতেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের এমন এক নির্মম পরিহাস যে, এবার সেই অপরাধের মামলাতেই আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ফাঁসির সাজা পেলেন মিশরের অত্যন্ত জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপক সারাহ খলিফা। বিশাল পরিমাণ মাদক তৈরি এবং আন্তর্জাতিক পাচারের একটি চাঞ্চল্যকর মামলায় তাঁর সঙ্গে আরও ১১ জন অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত।
শনিবার মিশরের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘আল-আহরাম’ এই চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশ করেছে। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, বেআইনিভাবে মাদক তৈরির বিভিন্ন উপকরণ সংগ্রহ এবং তা দেশজুড়ে পাচারের উদ্দেশ্যে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র বা সিন্ডিকেট পরিচালনার দায়ে তাঁদের এই সর্বোচ্চ সাজা শোনানো হয়েছে। তবে মিশরের আইন অনুযায়ী, আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
যেভাবে ফাঁসলেন টিভি তারকা?
৩৯ বছর বয়সী সারাহ খলিফা মিশরে ‘মিশন ইমপসিবল’ নামের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় অপরাধ বিষয়ক টেলিভিশন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করতেন। ওই শোতে মূলত সমাজের বিভিন্ন নিরাপত্তা এবং ক্রাইম থ্রিলার সংক্রান্ত নানা স্পর্শকাতর বিষয় তুলে ধরতেন তিনি। কিন্তু আড়ালে তাঁর অন্য রূপ ছিল। তাঁকে এবং অন্য ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আগে নিয়ম মেনে মিশরের গ্র্যান্ড মুফতির আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় মতামত নেন আদালত, যা দেশটির আইনি প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক।
রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র ‘আখবার এল-ইয়োম’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধৃত আসামিদের বিরুদ্ধে সিনথেটিক বা কৃত্রিম মাদক তৈরি ও তা অবাধে পাচারের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল। বিদেশ থেকে অত্যন্ত গোপনে মাদক তৈরির কাঁচামাল আমদানি করে এই সিন্ডিকেট দেশেই মাদকের উৎপাদন চালাত।
অভিযানে উদ্ধার ৭৫০ কেজি মাদক
নিরাপত্তা বাহিনীর বড়ো সাঁড়াশি অভিযানে মোট ৭৫০ কেজিরও বেশি নিষিদ্ধ মাদক এবং মাদক তৈরির বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে দুটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের সন্ধান পায়, যেগুলিকে সম্পূর্ণ গোপনীয়তার সঙ্গে মাদক তৈরির পরীক্ষাগার বা ল্যাবরেটরি হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ওই জায়গাগুলি থেকে বিপুল পরিমাণ লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র এবং তাজা কার্তুজও উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মাদক পাচারের এই বিশাল মামলার পাশাপাশি সারাহ খলিফা এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে আরও একটি পৃথক অপরাধের প্রমাণ মিলেছে। এক তরুণকে জোর করে অপহরণ এবং বেধড়ক মারধরের অভিযোগে আদালত তাঁদের আরও পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। প্রসঙ্গত, উপস্থাপনার পাশাপাশি সারাহর নিজস্ব একটি কসমেটিক সার্জারি ক্লিনিক রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠান ও পার্টি আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রযোজনা সংস্থাও তিনি পরিচালনা করতেন বলে জানা গিয়েছে।
মিশরের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, সন্ত্রাসবাদ, ধর্ষণের মতো নৃশংস অপরাধের পাশাপাশি বিশাল পরিমাণে মাদক পাচারের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রেও মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন ‘ইজিপশিয়ান কমিশন ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডমস’-এর তথ্য বলছে, দেশটিতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কঠোর হাতে অপরাধ দমনের নজির দীর্ঘদিনের।