বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই ডিলিমিটেশন! কালীঘাট থেকে ঋতব্রত—এক সুরে বিস্ফোরক অভিযোগ জোড়াফুলের

কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন (Delimitation) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। পুরসভায় ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করার পাশাপাশি সীমানা বদল ও নতুন ওয়ার্ড যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। আর এই ডিলিমিটেশন ঘিরেই পুরসভায় শুরু হওয়া অভিযোগ ও আপত্তির শুনানিতে বিস্ফোরক ছবি সামনে এল। রাজনৈতিক অবস্থানে দূরত্ব থাকলেও, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের পদ্ধতি নিয়ে একেবারে একই সুরে শাসকদলকে কাঠগড়ায় তুলল তৃণমূলের বিভিন্ন শিবির।
বুধবার পর্যন্ত কলকাতা পুরসভায় এই বিষয়ে অভিযোগের শুনানি চলার কথা রয়েছে। প্রথম দিনের শুনানিতেই কালীঘাট ও ঋতব্রত—উভয় শিবিরের প্রতিনিধিরাই উপস্থিত হয়ে ডিলিমিটেশনের প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান। তাঁদের অভিযোগ, যে পদ্ধতিতে ওয়ার্ডগুলি পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে তা একেবারেই আইনসম্মত নয়। কোন এলাকার সঙ্গে কোন এলাকা যুক্ত হচ্ছে বা সীমানা নির্ধারণের নেপথ্যে আসল যুক্তি কী, সেই প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেতারা।
এদিন কালীঘাট-তৃণমূলের তরফে বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, জনসংখ্যা অনুপাতে ওয়ার্ডগুলি সঠিকভাবে ভাগ করা হয়নি। কোথাও ভোটারের সংখ্যা অনেক বেশি, তো কোথাও আবার খুবই কম রাখা হয়েছে। একই সুরে বিধায়ক জাভেদ খান অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে কর্পোরেশন ইচ্ছেমতো বিধানসভা কেন্দ্র ভেঙে অন্য জায়গায় যুক্ত করেছে।
তৃণমূলের এই যৌথ ক্ষোভের নেপথ্যে বিজেপির যোগ রয়েছে বলেই দাবি করেছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দিতেই অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে এই কাজ করা হচ্ছে এবং অফিসাররা তাঁদের প্রশ্নের সঠিক সদুত্তর দিতে পারছেন না।
অন্যদিকে, শাসকদলের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “চোরে চোরে মাসতুতো ভাই।” শুধু রাজনৈতিক দলগুলিই নয়, সাধারণ মানুষও ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে তাঁদের কোনও অভিযোগ বা পরামর্শ থাকলে তা জানাতে পারছেন। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই শুনানি প্রক্রিয়া চলবে বলে জানা গেছে।