জিডিপি নিয়ে তোলপাড়! সরকারি পরিসংখ্যান বাদ দিয়ে ব্যক্তিগত অনুভূতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হলো এই ‘কাল্পনিক’ অর্থনৈতিক মাপকাঠি?

দেশের অর্থনৈতিক বিকাশ এবং জিডিপি (GDP) নিয়ে বিতর্ক বা তরজা নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট ঘিরে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘Anecdotal GDP’ বা এনেকডোটাল জিডিপি নামক একটি কাল্পনিক ও ব্যঙ্গাত্মক শব্দ। আসুন জেনে নেওয়া যাক হঠাৎ কেন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এল এই নতুন ধারণাটি।
কী এই ‘Anecdotal GDP’?
স্পষ্ট করে বলা ভালো, ‘Anecdotal GDP’ কোনো সরকারি বা প্রথাগত অর্থনৈতিক সূচক নয়। এটি সম্পূর্ণ একটি কাল্পনিক এবং ব্যঙ্গাত্মক ধারণা। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (প্রাক্তন টুইটার) এক ইউজারের একটি মজার পোস্ট থেকেই এই ট্রেন্ডের সূত্রপাত। ওই পোস্টে কটাক্ষের সুরে বলা হয়েছিল যে, সরকারি সংস্থা মোসপি (MoSPI) নাকি এবার রিয়েল ও নমিনাল জিডিপির পাশাপাশি ‘এনেকডোটাল জিডিপি’ও প্রকাশ করবে!
পোস্টে আরও দাবি করা হয় যে, এই নতুন জিডিপি কোনো দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নয়, বরং কিছু প্রাক্তনী, অর্থনীতিবিদ ও সমালোচকদের ব্যক্তিগত আবেগ বা অনুভূতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে। মূলত যাঁরা সরকারি পরিসংখ্যানকে পাশ কাটিয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত বা বিচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দেশের অর্থনীতি নিয়ে রায় দেন, তাঁদের ওপরই এই তীব্র কটাক্ষ করা হয়েছে।
রিয়েল এবং নমিনাল জিডিপির সঙ্গে এর তফাত কোথায়?
‘রিয়েল জিডিপি’ এবং ‘নমিনাল জিডিপি’ হলো দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক কার্যকলাপ ও উৎপাদনের বৈজ্ঞানিক ও সরকারি মাপকাঠি। অন্যদিকে, ‘এনেকডোটাল’ শব্দের অর্থ হলো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বা কোনো কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে মতামত তৈরি করা। সোশ্যাল মিডিয়ার এই ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে এটাই বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে, মানুষের ব্যক্তিগত আবেগ বা ক্ষণস্থায়ী অভিজ্ঞতাকে যদি জিডিপির মাপকাঠি বানিয়ে দেওয়া হয়, তবে অর্থনীতির আসল ছবিটা কতটা হাস্যকর হতে পারে।
কেন ফের উত্তপ্ত জিডিপি বিতর্ক?
চলতি বছরের আগস্ট মাসের শেষের দিকে সরকার চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকের (এপ্রিল-जून) জিডিপি পরিসংখ্যান প্রকাশ করে, যেখানে দেশের রিয়েল জিডিপি গ্রোথ রেট ৭.৮ শতাংশ দেখানো হয়। এর পরেই অর্থনীতিবিদ ও বিরোধীদের একটি অংশ এই পরিসংখ্যানের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই শক্তিশালী বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে বিদ্যুৎ consumption, সিমেন্ট-স্টিল উৎপাদন এবং সার্ভিস খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্সের মতো শক্তপোক্ত বাস্তব ভিত্তি। আর এই সামগ্রিক বিতর্কের মাঝেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ব্যঙ্গাত্মক ট্রেন্ডটি ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।