পুলে নেমেও ফিরল না প্রাণ! ৭ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ডুবল একাদশ শ্রেণির ছাত্র?

শহরের এক নামী সুইমিং ক্লাবের পুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার ঢাকুরিয়ার একটি সুইমিং পুলে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। মৃত ছাত্রের নাম সরিপ ঘোষ (১৬)। সে শহরের একটি নামী স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল। ছোটবেলা থেকেই সাঁতারের সঙ্গে তার গভীর যোগাযোগ ছিল এবং গত প্রায় সাত বছর ধরে সে নিয়মিত সাঁতার কাটত। পরিচিত মহলে সে একজন দক্ষ সুইমার হিসেবেই পরিচিত ছিল। এত বছরের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে সে জলের মধ্যে তলিয়ে গেল, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবারও যথারীতি নিয়ম মেনে ঢাকুরিয়ার ওই পুলে সাঁতার কাটতে নেমেছিল সরিপ। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই আচমকা ঘটে যায় বিপত্তি। পুলের জলে সাঁতার কাটার সময় কোনওভাবে সে তলিয়ে যেতে শুরু করে। ঠিক কী কারণে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ওই কিশোর জলের নীচে চলে গেল, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে এই ঘটনার সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক হলো, প্রায় ১৫ মিনিট ধরে ওই কিশোর জলের তলায় থাকলেও তা কারও নজরে আসেনি। ক্লাবের কর্মী বা লাইফগার্ডদের ভূমিকা নিয়ে তাই প্রশ্ন উঠছে।

পরে বিষয়টি নজরে আসতেই তড়িঘড়ি তাকে জল থেকে উদ্ধার করা হয় এবং দ্রুত একটি কাছাকাছি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে হাসপাতালে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। এই আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকেও সুইমিং পুল কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। এতক্ষণ ধরে একজন কিশোর জলে ডুবে থাকার পরেও কেন কারও চোখে পড়ল না, তা খতিয়ে দেখছে লেক থানার পুলিশ। পুলে সেই সময় পর্যাপ্ত লাইফগার্ড বা প্রশিক্ষিত নজরদারি কর্মী উপস্থিত ছিলেন কি না, সিসিটিভি ফুটেজে পুরো ঘটনার কোনও ক্লু পাওয়া যায় কি না—তা গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্টের ভিত্তিতে মৃত্যুর আসল কারণ ও দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের গাফিলতির বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।