১৫ সেপ্টেম্বরের পর কি দোকানে আর মিলবে না UPI? বড় বিপদের মুখে ডিজিটাল লেনদেন!

আসন্ন ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে লক্ষাধিক ছোট-বড় দোকান এবং ফুটপাথের খুচরো বিক্রেতাদের নতুন করে কেওয়াইসি (KYC) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিশাল অনিশ্চয়তা। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত ব্যবসায়ীর কেওয়াইসি সম্পূর্ণ না হলে দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ দোকানে রাতারাতি ইউপিআই (UPI) পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই আশঙ্কার কথা জানিয়ে ইতিমধ্যেই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) দ্বারস্থ হয়েছে দেশের সমস্ত বড় অনলাইন পেমেন্ট সংস্থাগুলি। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক যদি শেষ মুহূর্তে সময়সীমা না বাড়ায়, তবে সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী—সবাইকেই বড় বিপদের মুখে পড়তে হতে পারে।
ডিজিটাল ইন্ডিয়া নেওয়ার পর থেকে ভারতের অর্থনীতিতে নগদের ব্যবহার অনেকটাই কমেছে। চা দোকান থেকে শুরু করে বড় শপিং মল—সর্বত্রই এখন কিউআর কোড স্ক্যান করে পেমেন্ট করার প্রবণতা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। পকেটে নগদ টাকা নিয়ে ঘোরার ঝামেলা এড়াতে ক্রেতারা এখন পুরোপুরি ডিজিটাল লেনদেনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু অনলাইন পেমেন্ট কোম্পানিগুলির বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের বহু প্রান্তের ছোট ও মাঝারি দোকানদার এখনও পর্যন্ত প্রযুক্তিগত বা বিভিন্ন কারণে তাঁদের কেওয়াইসি প্রক্রিয়া শেষ করতে পারেননি। নির্ধারিত ১৫ সেপ্টেম্বর ডেডলাইনের মধ্যে এই বিশাল সংখ্যক বিক্রেতার নথি যাচাই করা অসম্ভব এক চ্যালেঞ্জ।
যদি আরবিআই এই সময়সীমা বৃদ্ধি না করে, তবে নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখের পর ওই বিক্রেতাদের মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টগুলি সাময়িকভাবে ব্লক বা স্থগিত করে দেওয়া হতে পারে। যার ফলে সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের খুচরো বাজারে। বিভিন্ন আর্থিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি তৈরি হলে দেশের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ছোট ও ফুটপাথ বিক্রেতার ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আনুমানিক ১০ লক্ষেরও বেশি ব্যবসায়ী এর জেরে চরম আর্থিক সঙ্কটের মুখে পড়তে পারেন। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেন সচল রাখতে শেষ পর্যন্ত রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সময়সীমা বাড়ায় কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।