পুজোর আগে দারুণ সুযোগ! হুড়মুড়িয়ে কমল সোনা-রূপোর দাম, পকেটে স্বস্তি আমজনতার

আসন্ন উৎসবের মরশুমের কথা মাথায় রেখে সোনার গয়না কেনার পরিকল্পনা করছেন? তবে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে দারুণ এক খুশির খবর। ‘স্বর্ণ শিল্প বাঁচাও কমিটি’ (SSBC)-র প্রকাশিত সাম্প্রতিক বাজারদর অনুযায়ী, গত ৪ সেপ্টেম্বরের তুলনায় আজ, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ সোনা ও রূপোর দামে উল্লেখযোগ্য পতন লক্ষ্য করা গেছে। গয়নাপ্রেমী থেকে শুরু করে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার—সবার জন্যই এই মূল্যপতন বেশ স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠেছে।
গত ৪ সেপ্টেম্বর যেখানে ফাইন গোল্ড (৯৯৫) প্রতি গ্রাম ১৫,৪৬৪ টাকায় বিকোচ্ছিল, আজ তার দাম কমে হয়েছে ১৫,২৬৪ টাকা, অর্থাৎ প্রতি গ্রামে ২০০ টাকা পতন ঘটেছে। অন্যদিকে, সবচেয়ে জনপ্রিয় ২২ ক্যারেট (৯১৬) সেলিং গোল্ডের দাম আগের ১৪,৬৯০ টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১৪,৫০০ টাকা প্রতি গ্রামে (পতন ১৯০ টাকা)। ২২ ক্যারেট বাইয়িং গোল্ডের দামও কমে হয়েছে ১৩,৮৯০ টাকা প্রতি গ্রাম। পাশাপাশি, ১৮ ক্যারেট সোনার দাম কমে দাঁড়িয়েছে ১১,৯০৫ টাকা প্রতি গ্রাম। সোনা ছাড়াও রূপোর বাজারেও বড়সড় স্বস্তি মিলেছে। ১ কেজি রূপোর বার (৯৯৯)-এর দাম গত কালকের ২,৩৮,৪০৫ টাকা থেকে কমে আজ হয়েছে ২,৩৫,০০০ টাকা। অর্থাৎ এক ধাক্কায় প্রতি কেজিতে ৩,৪০৫ টাকা কমেছে রূপোর দাম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনার বিশুদ্ধতা শুধু ক্যারেট দিয়ে নয়, ফিননেস (Fineness)-এর মাধ্যমেও নির্ধারণ করা হয়। যেমন ২৪ ক্যারেট (৯৯৫) সোনায় প্রতি ১০০০ ভাগে ৯৯৫ ভাগ খাঁটি সোনা থাকে। তবে গয়না তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ২২ ক্যারেটের সোনা। এর ফিননেস ৯১৬, অর্থাৎ এতে ৯১৬ ভাগ সোনা এবং বাকি ৮৪ ভাগ অন্যান্য ধাতু মেশানো থাকে। এর ফলে গয়না অনেক বেশি টেকসই হয়। এছাড়া হিরের গয়না বা জটিল ডিজাইনার জুয়েলারির ক্ষেত্রে ১৮ ক্যারেটের সোনা ব্যবহার করা হয়, যাতে অন্যান্য ধাতুর পরিমাণ কিছুটা বেশি থাকে। একেবারে খাঁটি ২৪ ক্যারেট সোনা অত্যন্ত নরম হওয়ায় তা দিয়ে সরাসরি টেকসই গয়না তৈরি করা কঠিন। তাই স্থায়িত্ব বাড়াতে এবং পছন্দসই ডিজাইন ফুটিয়ে তুলতে নির্দিষ্ট অনুপাতে অন্যান্য ধাতু মেশানো হয়। সোনা ও রূপোর এই দাম কমার ফলে উৎসবের বাজারে কেনাকাটা আরও বাড়বে বলেই আশা ব্যবসায়ীদের।