কাজের লোভ দেখিয়ে ডেকে নিয়ে তরুণীকে অকথ্য অত্যাচার! বেঙ্গালুরুতে টাকার জন্য পাশবিক কায়দায় নির্যাতন

বেঙ্গালুরুতে ঋণ পরিশোধ করতে না পারার জেরে এক তরুণীর ওপর চালানো হলো চরম পাশবিক ও অমানবিক নির্যাতন। শুধু শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারই নয়, তাঁকে জোর করে পোশাক খুলতে বাধ্য করা হয় এবং সেই আপত্তিকর দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় দুই মহিলাসহ মোট চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই নৃশংস অপরাধের খবর প্রকাশ্যে আসতেই গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের মারফত জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা তরুণী প্রায় দু’বছর আগে রেশমা নামের এক মহিলার থেকে ১ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে নিয়মিত চড়া হারে সুদ দিতে হতো। তবে বিগত ছয় মাস ধরে চরম আর্থিক সংকটের কারণে তিনি আর কোনো কিস্তি বা সুদের টাকা মেটাতে পারেননি। এর পাশাপাশি নাজরত নামের অপর এক মহিলার কাছ থেকেও তিনি ৫০ হাজার টাকা ধার করেছিলেন, যেখানে প্রতি সপ্তাহে পাঁচ হাজার টাকা করে চড়া সুদ দেওয়ার কথা ছিল। সেখানেও গত চার সপ্তাহ ধরে তিনি টাকা দিতে ব্যর্থ হন।
টাকা আদায়ে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে নাজরত ওই তরুণীকে ফাঁসানোর এক গভীর ষড়যন্ত্র করে। তরুণীকে ভালো কাজ পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে নিজের বাড়িতে ডেকে পাঠান। সরল বিশ্বাসে তরুণী সেখানে পৌঁছনো মাত্রই শুরু হয় আসল চক্রান্ত ও অকথ্য নির্যাতন।
নির্যাতিতা পুলিশকে দেওয়া অভিযোগে জানিয়েছেন, তাঁকে জোরপূর্বক একটি অটো রিকশায় তুলে বেঙ্গালুরুর অদূরে একটি নির্জন বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রেশমা ও নাজরতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁদের দুই পুরুষ সঙ্গী সোহেল ও সইফ। অভিযোগ, ওই চারজন মিলে তরুণীকে একটি ঘরে আটকে রেখে তাঁর পরনের পোশাক খুলতে বাধ্য করে এবং অমানবিক নির্যাতন চালায়। ভবিষ্যতে পাওনা টাকা না দিলে এই আপত্তিকর ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।
এদিকে নিজের মেয়েকে হঠাৎ নিখোঁজ দেখতে পেয়ে চরম উৎকণ্ঠায় খোঁজ শুরু করেন তাঁর মা। দীর্ঘক্ষণ কোনো সন্ধান না মেলায় তিনি সোজা স্থানীয় থানায় গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার গুরুত্ব ও স্পর্শকাতরতা বুঝে তড়িঘড়ি তদন্তে নামে পুলিশ। প্রযুক্তিগত সহায়তা ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বন্দিদশা থেকে নির্যাতিতা তরুণীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে রেশমা, নাজরত, সুহেল ও সইফ—এই চারজনকেই পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ধৃতদের কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এই চক্রের সঙ্গে আরও অন্য কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী অফিসাররা।