নেপালে ফের ভয়ংকর ভূমিধসের তাণ্ডব! নদীর গতিপথ বদলে যাওয়ায় হু হু করে বাড়ছে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা

প্রকৃতির রুদ্ররোষে ফের এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে প্রতিবেশী দেশ নেপাল। সম্প্রতি দেশটির দূরবর্তী দারচুলা জেলায় এক বিশাল ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে, যার জেরে পাহাড়ি উপত্যকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই এই মর্মান্তিক ও ভয়াল ভূমিধসের একটি রোমহর্ষক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে ধসের কবলে পড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের আর্তনাদ ও কান্নার আওয়াজ স্পষ্টভাবে শোনা গেছে। এই বিধ্বংসী ভূমিধসের ফলে স্থানীয় চৌলানি নদীর স্বাভাবিক জলপ্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। নদীর গতিপথে বিশাল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ ও মাটির পাহাড় এসে পড়ার কারণে নদীর প্রবাহ আংশিক আটকে গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির পক্ষ থেকে নদীর ভাটির দিকে বসবাসকারী সমস্ত মানুষকে নিয়ে অত্যন্ত কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, যদি পাহাড়ি এলাকায় অবিরাম বৃষ্টিপাত চলতে থাকে এবং আরও বড় ধরনের ভূমিধস নামে, তবে চৌলানি নদীর প্রবাহ সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়তে পারে। এমনটি ঘটলে নদীর জলস্তর আকস্মিক বেড়ে গিয়ে বিরাট বাঁধ ভেঙে তীব্র বেগে আকস্মিক বন্যা বা ফ্ল্যাশ ফ্লাড দেখা দিতে পারে, যা নিমেষেই গ্রাস করতে পারে নদী তীরবর্তী জনপদগুলোকে। এই সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে নদী সংলগ্ন এলাকার সমস্ত বাসিন্দাকে চরম সতর্কাবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যেই পর্যাপ্ত পরিমাণে নিরাপত্তা কর্মী ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে।

সুদূরপশ্চিম প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী খগরাজ ভাট্টা স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং সমস্ত সরকারি সংস্থাকে সর্বোচ্চ স্তরের সতর্কতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। যেকোনো ধরনের সংকটজনক পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দেওয়ার জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে একাধিক জরুরি হেল্পলাইন নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, আর্মড পুলিশ ফোর্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে বর্তমানে চৌলানি নদী তার স্বাভাবিক গতিতেই প্রবাহিত হচ্ছে। তা সত্ত্বেও সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য এবং যেকোনো বিপদের হাত থেকে স্থানীয় জনবসতিকে রক্ষা করতে বালাঞ্চ এলাকায় অবস্থিত নেপাল চামেলিয়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তা ঘাঁটির বিশেষ টিমকে ডিউটিতে রাখা হয়েছে। প্রসঙ্গত, চামেলিয়া বা চৌলানি নদীটি মূলত আপি হিমাল অঞ্চল থেকে উৎপন্ন হয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে মহাকালী নদীতে গিয়ে মিশেছে। এই মহাকালী নদীটি ভারত ও নেপালের আন্তর্জাতিক সীমানার একটি অংশ তৈরি করায় দুই দেশের সুরক্ষার দিক থেকেও বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে মনে করা হচ্ছে।