উত্তরবঙ্গ যাওয়ার স্বপ্ন কি তবে শেষ? রেলের পর এবার ফরাক্কা সেতুতে ১২ ঘণ্টার মহাজ্যামে স্থবির যোগাযোগ!

রেলপথের পর এবার কি তবে সড়কপথেও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ? নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছে রেললাইনে ধস নামার জেরে গত বৃহস্পতিবার থেকেই উত্তরবঙ্গগামী ট্রেন চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। আজ শনিবারও বাতিল করা হয়েছে উত্তরবঙ্গমুখী প্রায় সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন। রেল পরিষেবা বন্ধ থাকায় স্বাভাবিকভাবেই সমস্ত যাত্রীর বাড়তি চাপ গিয়ে পড়েছে বাস ও সড়কপথের ওপর। আর তার জেরে ফরাক্কা এলাকায় তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন এবং ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি।

প্রবল যানজটের কারণে দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের লাইফলাইন প্রায় থমকে গেছে। দীর্ঘ ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ফরাক্কা এলাকায় তীব্র যানজটে আটকে রয়েছে শত শত যানবাহন। গতকাল রাত থেকে ফরাক্কা ব্যারেজ ও তার আশেপাশের চত্বরে এই বিশাল যানজট শুরু হয়। রাস্তার ওপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে সারি সারি যাত্রীবাহী বাস, ভারী মালবাহী ট্রাক এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত গাড়ি। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, এই দীর্ঘ ট্রাফিক জ্যামের কবলে পড়ে আটকে রয়েছে জরুরি পরিষেবা দেওয়া অ্যাম্বুল্যান্সও। চারদিকে চরম বিশৃঙ্খলা ও হতাশার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, গাড়ির ভেতর থেকে বের হওয়ারও কোনো উপায় নেই।

রেলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত বাস নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কলকাতার ধর্মতলা থেকে যেমন উত্তরবঙ্গগামী বিভিন্ন রুটের বাস ছাড়ছে, তেমনই শিলিগুড়ি ও নিউ জলপাইগুড়ি থেকেও কলকাতার উদ্দেশে একাধিক অতিরিক্ত বাস চালানো হচ্ছে। এই সমস্ত বাস ও যানবাহনগুলির যাতায়াতের প্রধান রুট হলো ফরাক্কা। স্বাভাবিক সময়েও ওভারলোড ট্রাক চলাচলের কারণে ফরাক্কা ব্যারেজের এই সংকীর্ণ সড়কে মাঝেমধ্যেই যানজটের সৃষ্টি হয়। কিন্তু বর্তমানে রেল পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় বাসের ওপর অতিরিক্ত যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

আর সেই কারণেই ফরাক্কা সড়কে বিশাল ও অসহনীয় যানজট তৈরি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকা যাত্রীদের বাসের আসনেই বন্দি হয়ে কাটাতে হচ্ছে। কবে এবং কখন এই তীব্র যানজট থেকে সাধারণ মানুষ ও যাত্রীরা মুক্তি পাবেন, তার সুনির্দিষ্ট উত্তর কারোর কাছেই নেই। প্রশাসন যানজট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালালেও পরিস্থিতি দিন দিন জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠছে।