গভীর রাতে খাস কলকাতায় রক্তারক্তি! যুগলের ঝগড়া থামাতে গিয়ে মারাত্মক হামলার শিকার দুই বিজেপি নেতা

গভীর রাতে খাস কলকাতার বুকে এক চাঞ্চল্যকর ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রাস্তায় এক দম্পতির তীব্র পারিবারিক বাঝ বা বচসা থামাতে গিয়ে মারধরের শিকার হলেন দুই বিজেপি নেতা। নির্মম এই হামলার জেরে ইটের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন ওই বিজেপি নেতারা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কলকাতার ব্যস্ত এলাকা বাঘাযতীন অঞ্চলে এই ঘটনাটি ঘটেছে, যার ফলে পুরো এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে?
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বিজেপি যুব মোর্চার মণ্ডল সভাপতি সৌম্যদীপ সাহার দাবি অনুযায়ী, শুক্রবার গভীর রাত প্রায় আড়াইটে নাগাদ তিনি ব্যক্তিগত কাজে রাস্তায় বেরিয়েছিলেন। সেই সময় একটি জনবহুল রাস্তার মোড়ে তিনি এক যুগলকে তীব্র বচসায় লিপ্ত হতে দেখেন। পথচারীদের সমস্যা তৈরি হওয়ায় তিনি ওই বচসারত যুগলকে দ্রুত সেখান থেকে সরে যেতে অনুরোধ করেন। অভিযোগ, ঠিক এই সামান্য কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই যুগলের পরিচিত কিছু লোক অতর্কিতে একটি আধলা ইট দিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হয়। ইটের নির্মম আঘাতে তাঁর মুখ ফেটে যায় এবং তিনি গুরুতর জখম হন। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে তিনি সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সহকর্মী ও দলীয় কর্মীদের ফোন করে ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠান।
পরবর্তীতে আরও বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র হাতাহাতি ও সংঘর্ষ বাধে। এই সংঘাতে আরও এক বিজেপি নেতা গুরুতর আহত হন। জানা গেছে, বাঘাযতীন এলাকার এই ঘটনায় বিজেপি যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদকের মাথা ও চোখে মারাত্মক চোট লেগেছে। রাতের অন্ধকারে চলা এই সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
রাজনৈতিক তরজা ও অভিযোগ
এই হামলার ঘটনার পর আহত দুই বিজেপি নেতাকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলে। আহত বিজেপি যুব মোর্চা সভাপতি সৌম্যদীপ সাহার জোরালো দাবি, যে সমস্ত দুষ্কৃতীরা তাঁর ওপর আক্রমণ চালিয়েছে, তারা প্রত্যেকেই নিজেদের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় কর্মী বলে পরিচয় দিয়েছিল।
যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে আনা এই গুরুতর অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। উলটো শাসকদলের দাবি, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ফায়দা তোলার উদ্দেশ্যে এই ঘটনায় জোর করে তৃণমূলের নাম জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা অবনতির পেছনে সমাজবিরোধীদের হাত রয়েছে বলে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, বাঘাযতীন ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রায়শই বহিরাগত সমাজবিরোধীদের আনাগোনা বাড়ে এবং সেখানে নেশার আসর বসে। এই ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক সংঘর্ষ নাকি পুরোপুরি সমাজবিরোধীদের ভূমিকা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই স্থানীয় থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।