মির্জা গালিব স্ট্রিটকাণ্ডের ভয়াবহ রেশ! কলকাতায় আসার আগে বাংলাদেশিদের জন্য জারি হলো কঠোর নির্দেশিকা

মির্জা গালিব স্ট্রিটের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। কলকাতায় আগত বাংলাদেশিদের জন্য এবার একগুচ্ছ নতুন ও কঠোর নির্দেশিকা জারি করল বাংলাদেশ সরকারের বিদেশ মন্ত্রক এবং কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশন। সাম্প্রতিক মর্মান্তিক এই ঘটনার পর বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপে বাধ্য হয়েছে কমিশন।

নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, চিকিৎসার প্রয়োজনে বা অন্য যে কোনো দরকারে যারা কলকাতা সফর করবেন, তাদের এবার থেকে অবশ্যই আগাম হোটেল বা লজ বুকিং করে আসতে হবে। শুধু তাই নয়, কলকাতায় যে হোটেল বা গেস্ট হাউস বুক করা হচ্ছে, তার বর্তমান পরিকাঠামো কেমন, মোট কতগুলি ঘর রয়েছে এবং অগ্নি নিরাপত্তার মতো মৌলিক বিষয়গুলি ঠিকঠাক রয়েছে কি না— সে বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে তবেই বুকিং করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যারা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আসছেন, তাদের হোটেল থেকে নির্দিষ্ট হাসপাতালের দূরত্ব কত এবং সেখানে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও ইমার্জেন্সি ব্যবস্থা কেমন আছে, তা আগে থেকেই যাচাই করে নিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ঘটে যাওয়া বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে মোট ৯ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। যার মধ্যে ৭ জনই ছিলেন বাংলাদেশের নাগরিক। বাকি দু’জন ভারতীয়র মধ্যে একজনের বাড়ি শিলিগুড়িতে এবং অন্যজন ঝাড়খণ্ডের গিরিডির বাসিন্দা ছিলেন। ওই তরুণ রিসেপশনিস্ট হিসেবে সদ্য কাজে যোগ দিয়েছিলেন এবং শর্টসার্কিট থেকে লাগা আগুন প্রথমে রিসেপশন এলাকাতেই ছড়িয়ে পড়েছিল। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরই শহরের হোটেল এবং গেস্ট হাউসগুলির ফায়ার সেফটি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

তদন্তে নেমে দমকল বিভাগও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। মির্জা গালিব স্ট্রিটের অন্তত ৯টি গেস্ট হাউস এবং ৪টি রেস্তোরাঁকে শো-কজ নোটিস পাঠানো হয়েছে। দমকল সূত্রে খবর, এই প্রতিষ্ঠানগুলিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও ফায়ার সেফটির ক্ষেত্রে গুরুতর একাধিক ত্রুটি ধরা পড়েছে। কেন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ করে দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এর আগেও একাধিকবার নিয়ম মেনে চলার জন্য সতর্ক করা হলেও তা কানে তোলেনি হোটেল কর্তৃপক্ষ। ফলে এখন থেকে কঠোর নজরদারির মধ্য দিয়েই শহরের আতিথেয়তা ও আবাসন ক্ষেত্রকে সাজাতে চাইছে প্রশাসন।