“ব্রিটেনে হলে এতক্ষণে বর্ণবিদ্বেষ বলত!” দিল্লির হাটে এন্ট্রি ফি দেখে ফুঁসে উঠলেন বিদেশি ভ্লগার, নেটদুনিয়ায় তোলপাড়

দিল্লির বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী পর্যটন কেন্দ্র ‘দিল্লি হাট’-এর এন্ট্রি ফি (Dilli Haat Entry Fee) বা প্রবেশমূল্য নিয়ে বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক চরম আলোড়ন ও তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ইন্টারনেটে ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক বিদেশি ভ্লগার ভারতীয় নাগরিক এবং বিদেশি পর্যটকদের জন্য ধার্য করা ভিন্ন ভিন্ন প্রবেশমূল্য দেখে ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি সরাসরি এই দ্বিমুখী নীতিকে বর্ণবিদ্বেষ এবং বৈষম্যের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার এই বিতর্কিত মন্তব্য প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই নেটদুনিয়া দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। নেটিজেনদের একাংশ পর্যটকের পক্ষ নিলেও বিশাল সংখ্যক মানুষ তার এই একপেশে দাবির কড়া সমালোচনা করেছেন এবং এর নেপথ্যের যৌক্তিক কারণগুলো তুলে ধরেছেন।
ভাইরাল হওয়া এই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন টায়ার ব্লাংডন নামের এক বিদেশি পর্যটক ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। তিনি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, যেখানে তাকে দিল্লি হাটের প্রবেশদ্বারে ঝুলে থাকা অফিসিয়াল রেট বোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়। ওই সাইনবোর্ড অনুযায়ী, দিল্লি হাটে প্রবেশ করতে ভারতীয় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টিকিটের দাম মাত্র ৩০ টাকা, ৫ থেকে ১২ বছরের শিশুদের জন্য ২০ টাকা এবং বিদেশি নাগরিকদের জন্য এই ফি ধার্য করা হয়েছে ১০০ টাকা। এই বিশাল পার্থক্যের দিকে আঙুল তুলে ওই ভ্লগার কটাক্ষ করে ভিডিওতে বলেন, “একটু তাকিয়ে দেখুন, আমাকে বাকি সবার তুলনায় অনেক বেশি দাম চোকাতে হচ্ছে। যদি এমন বৈষম্য যুক্তরাজ্যে করা হতো, তবে এতক্ষণে সেটিকে সরাসরি বর্ণবিদ্বেষ বলে দাগিয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু ভারতেই এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বিষয় বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।” এমনকি তিনি ভিডিওর ওপর বড় বড় অক্ষরে লিখে দেন, “ভারতে কি এখনও বর্ণবিদ্বেষ রয়েছে?”
ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা ভাইরাল হয়ে যায় এবং হাজার হাজার ব্যবহারকারী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে শুরু করেন। বহু ভারতীয় ও সচেতন নেটিজেন ওই বিদেশি পর্যটককে উপযুক্ত তথ্য দিয়ে তীব্র জবাব দিয়েছেন। তারা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে পশ্চিমা দেশগুলোতেও অভিবাসী ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের সঙ্গে এ ধরনের দ্বিমুখী বা বৈষম্যমূলক নীতি হরহামেশাই অনুসৃত হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, একজন ক্ষুব্ধ ইউজার প্রশ্ন তুলেছেন যে, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলি যখন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের থেকে দেশীয় শিক্ষার্থীদের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি টিউশন ফি বা ডোনেশন আদায় করে, তখন কি সেটিকে বর্ণবিদ্বেষ বলা হয় না? এছাড়া অন্যান্য নেটিজেনরা যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে দিল্লি হাটের মতো জনবহুল ও সাংস্কৃতিক স্থানগুলির রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজে সাধারণ ভারতীয় নাগরিকদের করের অর্থই প্রধানত ব্যবহৃত হয়। সেই কারণে স্থানীয় বা দেশীয় নাগরিকদের জন্য এন্ট্রি ফি নামমাত্র রাখা সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত। পাশাপাশি, অনেক ভ্রমণপিপাসী স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে শুধু ভারত একা নয়, বরং ইউরোপ, আমেরিকা ও বিশ্বের বহু উন্নত দেশের ঐতিহাসিক মিউজিয়াম ও দর্শনীয় স্থানেও স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদেশি পর্যটকদের জন্য আলাদা ও বর্ধিত প্রবেশমূল্য নেওয়ার বহু পুরনো নিয়ম চালু রয়েছে।