‘শুদ্ধিকরণ’ বিতর্কের ঝড়! উত্তরাখণ্ডে পা রেখেই কি নির্বাচনের রং বদলাতে পারবেন নিতিন নবীন?

‘শুদ্ধিকরণ’ বিতর্কের আগুনে উত্তপ্ত উত্তরাখণ্ডের রাজনীতি। মল্লিকার্জুন খাড়গের জনসভার পরের বিতর্কিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন দেশজুড়ে কংগ্রেসের প্রতিবাদ তুঙ্গে, ঠিক তখনই নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করতে ময়দানে নামছে ভারতীয় জনতা পার্টি। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর থেকে দুদিনের সফরে উত্তরাখণ্ডে পৌঁছাচ্ছেন বিজেপির হেভিওয়েট নেতা নিতিন নবীন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সফর কেবল সাংগঠনিক শক্তি ঝালিয়ে নেওয়ার জন্য নয়, বরং রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক গোষ্ঠীগুলোকে এক ছাতার তলায় আনার এক সুচিন্তিত কৌশল। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর হলদওয়ালিতে রাজ্য কোর কমিটির বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। সেখানে বুথ স্তরের ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা হবে। এরপর ১০ সেপ্টেম্বর রুদ্রপুরে প্রাক্তন সৈনিকদের জনসভায় ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি শিখ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিশেষ মতবিনিময় করার কথা রয়েছে তাঁর।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল খাড়গের একটি জনসভাকে কেন্দ্র করে। সেখানে শুদ্ধিকরণ অনুষ্ঠান ঘিরে দানা বাঁধা বিতর্ক বর্তমানে রাজনৈতিক আবহকে তেঁতে তুলেছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, এই অপমানজনক ঘটনার পরও এখনও পর্যন্ত কোনো এফআইআর দায়ের করা হয়নি। দলিতদের মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন তুলে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদে নেমেছে কংগ্রেস নেতৃত্ব, যা ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার কাছে লিখিত অভিযোগ পর্যন্ত গড়িয়েছে।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিজেপির পালটা দাবি, উন্নয়নের আসল ইস্যু থেকে সাধারণ মানুষের নজর ঘোরাতেই বিরোধী দল এক কৃত্রিম রাজনৈতিক ন্যারেটিভ তৈরি করছে। দলীয় সূত্রের খবর, সেখানে কেবল দলিত সম্প্রদায়ের মানুষই নিজস্ব আচার-অনুষ্ঠান পালন করেছিলেন, যা নিয়ে অহেতুক বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।
পরিসংখ্যান বলছে, উত্তরাখণ্ডে তফসিলি জাতির জনসংখ্যা প্রায় ১৮.৯ শতাংশ এবং মুসলিম ভোটার প্রায় ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ, রাজ্যের প্রায় ৩৩ শতাংশ ভোটারের এই বৃহৎ সামাজিক মিশ্রণই নির্বাচনের আসল ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে। গত ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ৪৪.৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, যেখানে কংগ্রেসের প্রাপ্তি ছিল ৩৭.৯ শতাংশ। মাত্র ৬.৪ শতাংশের এই ব্যবধানই স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, আসন্ন ২০২৭-এর লড়াই কেবল রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ নয়, বরং সুক্ষ্ম সামাজিক সংহতি এবং ভোটের সমীকরণ বদলের এক কঠিন লড়াই। নিতিন নবীনের এই দুই দিনের সফর কি বিজেপির পালে নতুন হাওয়া তুলতে পারবে, নাকি শুদ্ধিকরণ বিতর্কই বদলে দেবে উত্তরাখণ্ডের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ—এখন সেটাই দেখার।