২৫০ ঘণ্টা পর টানেলে প্রাণের স্পন্দন! অবিশ্বাস্য উপায়ে জীবিত উদ্ধার দুই মেকানিক্যাল কর্মী!

নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের ভয়াল তাণ্ডবের দীর্ঘ ১০ দিন বা প্রায় ২৪০ ঘণ্টা পর অবশেষে এক অভাবনীয় ও অলৌকিক খবরের দেখা মিলেছে। গত ২৬ আগস্ট আঘাত হানা প্রকৃতির এই ধ্বংসলীলার মাঝে ত্রিশূলী ৩এ (Trishuli-3A) জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি কাদা ও ধ্বংসস্তূপে আচ্ছন্ন সুড়ঙ্গ থেকে দুই ব্যক্তিকে সম্পূর্ণ জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার নেপালি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এই রোমহর্ষক ও ঐতিহাসিক উদ্ধারের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রাণের কোনো অস্তিত্ব আছে কি না, যখন সেই আশা প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল, ঠিক তখনই উদ্ধারকারী দলের চরম তৎপরতা এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল।

উদ্ধার হওয়া সৌভাগ্যবান দুই ব্যক্তির নাম কবির মহারজন এবং সঞ্জয় সাহ। পেশায় কবির একজন মেকানিক্যাল সুপারভাইজার এবং সঞ্জয় মেকানিক্যাল ফোরম্যান হিসেবে ওই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘ ১০ দিন সুড়ঙ্গের বন্দিদশা থেকে মুক্ত করার পরপরই তাঁদের অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। নেপালি সেনা তাদের অফিশিয়াল হ্যান্ডেলে এই রুদ্ধশ্বাস উদ্ধারের সমস্ত বিবরণ ও ছবি শেয়ার করেছে। গত ২৬ আগস্ট রাসুওয়া এলাকায় ভোটেকোশি নদীর উথালপাথাল জলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ত্রিশূলী ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মূল সুড়ঙ্গটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, সুড়ঙ্গের ভেতরে সীমিত পরিমাণে আটকে থাকা অক্সিজেন এবং বেঁচে থাকার উপযোগী পরিবেশের জন্যই তাঁরা এতদিন প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে বেঁচে থাকতে পেরেছেন।

শুক্রবার উদ্ধারের সময় আচমকাই সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে মানুষের কণ্ঠস্বর বা কথা বলার শব্দ শুনতে পান উদ্ধারকর্মীরা। ভেতর থেকে সাড়া মিলতেই উদ্ধারকারীরা তাঁদের অভয় দিয়ে বলেন, “আতঙ্কিত হবেন না, আমরা আপনাদের উদ্ধার করতে আসছি।” এর পরেই ভেতর থেকে “হ্যাঁ” বলে ইতিবাচক সাড়া মেলে। এই কথা শোনার পরই নেপালি সেনা এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর একটি চৌকস দল কোনো সময় নষ্ট না করে সুড়ঙ্গের ভেতর প্রবেশ করে এবং আস্তরণ সরিয়ে তাঁদের নিরাপদ বাইরে নিয়ে আসে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও এই উদ্ধারকাজে বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়ে নেপালকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হয়েছে।

এই অলৌকিক ঘটনা সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকা বাকি নিখোজঁ শ্রমিকদের পরিবার এবং উদ্ধারকারী দলগুলির মনে নতুন করে আশার বাতি জ্বালিয়েছে। এর আগে শক্তির বিভাগের প্রধান শ্রীরাম নেউপানে সোশ্যাল মিডিয়ায় সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে সাড়া পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এদিকে, নেপাল পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক এই ভয়াবহ বন্যায় সারা দেশজুড়ে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই বেড়ে প্রায় ১২৯০-এ পৌঁছেছে। বর্তমানে নেপালি সেনা, ভারতীয় বিশেষজ্ঞ দল এবং অন্যান্য উদ্ধারকর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী সুড়ঙ্গের ভেতরে থাকা অন্য নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিরাপদে উদ্ধার করার জন্য তাদের চিরুনি তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করেছে।