১০৮ নাম জানলেই মনের সব ইচ্ছে পূরণ! জন্মাষ্টমীতে শ্রীকৃষ্ণের এই অলৌকিক নামগুলি একবার জপ করুন!

সনাতন ধর্মে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের লীলা, মাহাত্ম্য এবং রূপের বর্ণনার শেষ নেই। তাঁর অগণিত গুণ ও রূপের বৈচিত্র্যকে ফুটিয়ে তুলতে বিভিন্ন পৌরাণিক গ্রন্থে শত শত নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে ভক্তসমাজে এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রধানত ১০৮টি পবিত্র নাম বা ‘অষ্টোত্তরশতনম’ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে জপ করা হয়। হিন্দু ধর্মে উপাসনা বা মন্ত্র জপের ক্ষেত্রে ১০৮ সংখ্যাটির একটি বিশেষ আধ্যাত্মিক তাৎপর্য রয়েছে, ঠিক যেমন রুদ্রাক্ষ কিংবা তুলসীর মালায় ১০৮টি পুঁতি থাকে। ঐতিহ্যগতভাবে যেকোনো দেবতার আরাধনায় তাঁদের প্রধান নামগুলি ১০৮ বার জপ করার প্রাচীন প্রথা প্রচলিত রয়েছে। আর এই পুণ্য উদ্দেশ্যেই শ্রীকৃষ্ণের ১০৮টি নামের অত্যন্ত পবিত্র তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে। আসন্ন জন্মাষ্টমীর এই মহা পবিত্র উপলক্ষে ভগবান কৃষ্ণের এই ১০৮টি নাম এবং তাদের গভীর তাৎপর্য বা অর্থ প্রতিটি ভক্তের জেনে রাখা একান্ত প্রয়োজন।
ভক্তদের সুবিধার জন্য শ্রীকৃষ্ণের এই ১০৮টি দিব্য নামের অর্থ ও রূপ সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরা হলো: কৃষ্ণ অর্থাৎ যাঁর বর্ণ শ্যাম বা যিনি সকলকে আকর্ষণ করেন; কমলনাথ অর্থাৎ মা লক্ষ্মীর প্রভু; বসুদেবাত্মজ অর্থাৎ বসুদেবের আত্মা থেকে যাঁর জন্ম; সনাতন অর্থাত্ যিনি শাশ্বত ও চিরন্তন; লীলামানুষবিগ্রহ অর্থাৎ যিনি ভক্তের টানে মানব রূপ ধারণ করেন; এবং যসোদাবৎসল অর্থাৎ মাতা যশোদার অত্যন্ত প্রিয় পুত্র। এর পাশাপাশি শাস্ত্রে তাঁকে হরি অর্থাৎ ভক্তের দুঃখ হরণকারী; চতুর্ভুজ অর্থাৎ যাঁর চারটি বাহু রয়েছে; গদাধর, শঙ্খী ও চক্রী অর্থাৎ যথাক্রমে গদা, শঙ্খ ও সুদর্শন চক্রের ধারক হিসেবে পুজো করা হয়। তিনি দেবকিনন্দন, শ্রীশ, এবং নন্দগোপপ্রিয়তমজ নামেও সমধিক পরিচিত। তাঁর অলৌকিক লীলার মধ্যে যমুনাবেগসংহারী, বলভদ্রপ্রিয়নুজ, পুতানাজিভিতাহার এবং শকতাসুরভঞ্জন নামগুলি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যা তাঁর শৈশবকালীন মহাশক্তির পরিচয় দেয়।
এছাড়াও শ্রীকৃষ্ণের অন্যান্য নামগুলির মধ্যে সচ্চিদানন্দবিগ্রহ, নবনীতবিলিপ্তাঙ্গ (মাখনে মাখানো শরীর), নবনীথান (মাখনের জন্য নর্তক), এবং ষোড়শাস্ত্রীসহ্রেশ (ষোল হাজার রানীর অধিপতি) ভক্তদের মনকে ভক্তিভাবে আপ্লুত করে। তিনি ত্রিভঙ্গী ভঙ্গিমায় বাঁশি বাজান বলে তাঁকে ‘কৃতবেনু’ ও ‘মুরলীধর’ বলা হয়। ভক্তবৎসল কৃষ্ণ দ্রৌপদীকে তাঁর চরম সংকট থেকে রক্ষা করেছিলেন বলে তাঁকে ‘কৃষ্ণ-আসক্ত’ নামেও স্মরণ করা হয়। কংসারি, মুরারি এবং নরকান্তক হিসেবে তিনি দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করেছেন। গীতায় অর্জুনের সারথি হিসেবে তিনি ‘পার্থসারথি’ এবং কুরুক্ষেত্রের রণঙ্গনে ‘বিশ্বরূপদর্শক’ রূপ ধারণ করেছিলেন। সত্যবাচক, সত্যসংকল্প ও সত্যভামারতঃ রূপে তিনি সত্যের জয় প্রতিষ্ঠা করেছেন।
মহাবিপদে ভক্তকে রক্ষা করতে তিনি জগন্নাথ, জগদ্গুরু এবং সর্বেশ্বর রূপে অবতীর্ণ হন। তাঁর পরিধানে থাকে বনমালা ও পীতবস্ত্র, তাই তিনি ‘বনমালী’ ও ‘পিতাম্বর’। গিরিধারী বা গোবর্ধনচলোধারতা রূপে তিনি কনিষ্ঠ আঙুলে গোবর্ধন পর্বত ধারণ করে ব্রজবাসীকে রক্ষা করেছিলেন। গোপাল ও সর্বপালক হিসেবে তিনি সমগ্র বিশ্বের পালনকর্তা। রাধারমণ, বাঁকে বিহারী, মোহন, শ্যামসুন্দর এবং দ্বারকাধীশ রূপে তাঁর প্রতিটি রূপই ভক্তদের হৃদয়ে চিরজাগরূক। যোগেশ্বর, পরব্রহ্ম, পুরুষোত্তম এবং অচ্যুত অর্থাৎ যিনি কখনো ধ্বংস হন না—এই সমস্ত পবিত্র নাম জপের মাধ্যমেই ভক্তরা কৃষ্ণের কৃপা লাভ করে থাকেন। জন্মাষ্টমীর এই পবিত্র লগ্নে ভক্তিভরে এই ১০৮টি নাম জপ করলে গৃহস্থে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে।