উইকেন্ডে কী দেখবেন ভাবছেন? বলিউডকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মাথা ঘুরিয়ে দেওয়া এই ৫ মালয়ালম থ্রিলার না দেখলে বড় মিস!

সপ্তাহান্তে যখনই আমরা ওটিটি প্ল্যাটফর্মের রিমোট হাতে নিই, ঠিক কী দেখব তা পছন্দ করতে করতেই প্রায় আধ ঘণ্টা সময় পেরিয়ে যায়। বারবার সেই একই চারশো কোটি টাকার মেগা বাজেট সিনেমা, যেখানে পর্দায় নায়কেরা বাতাসে গাড়ি ওড়ায় আর অগুনতি অন্তঃসারশূন্য সংলাপের ফুলঝুরি ছোটানো হয়। কিন্তু আপনি যদি এমন কোনো গল্পের খোঁজ করেন যা আপনার মেরুদণ্ড দিয়ে ঠান্ডা স্রোত বইয়ে দেবে এবং সিনেমা শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও আপনাকে দীর্ঘক্ষণ হতবাক ও ভাবিয়ে রাখবে, তবে আর সময় নষ্ট না করে সোজা চোখ রাখুন মালয়ালম সিনেমার দুনিয়ায়। বর্তমান সময়ে ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পে মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রি এক চূড়ান্ত বিপ্লব ঘটিয়েছে। অপ্রয়োজনীয় জাঁকজমক ও বাহুল্য ছাড়াই নিখুঁত বিশ্বমানের সাসপেন্স তৈরি করার ফলে আজ দেশের অন্যান্য বড় বড় ইন্ডাস্ট্রির নির্মাতারাও এই ছবিগুলোর রিমেক স্বত্ব কেনার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। এই সপ্তাহের উইকেন্ডে আপনার বিনোদনকে দ্বিগুণ করতে আমরা বেছে নিয়েছি এমন পাঁচটি শক্তিশালী মালয়ালম চলচ্চিত্র, যা আপনার চোখ কপালে তুলতে বাধ্য। আর প্রতিবেদনের শেষ অংশে রয়েছে আমাদের স্পেশাল এডিটরস চয়েস!

তালিকার প্রথমেই রয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘দৃশ্যম ৩’ (Drishyam 3)। জর্জকুট্টির পরিবার এই পর্বে আবারও এক মারাত্মক আইনি জালে জড়িয়ে পড়েছে, তবে এবারের বাজিটা শুধু জেল খাটার নয়, বরং আস্ত পরিবারটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার। পরিচালক জিতু জোসেফ যেভাবে এই তৃতীয় পর্বে একের পর এক মাথা ঘুরিয়ে দেওয়া কূটকৌশল ও টুইস্ট বুনেছেন, তা দর্শকদের স্তম্ভিত করে দেবে। এরপরেই রয়েছে ‘সংশোধনী’ (Santhoshathinte Onnam Rahasyam), যেখানে একটি পুলিশ স্টেশনের ভেতরে হঠাৎ তিনটি গুলির শব্দ এবং এক পুলিশ কর্মীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গল্প এগোয়। দুই যমজ ভাইয়ের জটিল অতীত এবং জোজু জর্জের অনবদ্য অভিনয় ছবিটির শেষ ১০ মিনিটের ক্লাইম্যাক্সে আপনাকে মনের গভীরে নাড়া দেবে। তালিকার তৃতীয় ছবি ‘অন্বেষীপ্ত কন্ধেথুম’ (Anveshippin Kandethum) হলো নব্বইয়ের দশকের পটভূমিতে তৈরি এক নিখাদ, গুরুগম্ভীর পুলিশি তদন্তমূলক ড্রামা। যেখানে কোনো চটকদার অ্যাকশন ছাড়াই কেবল প্রাতিষ্ঠানিক চাপ ও জনরোষের মাঝে দুই খুনের রহস্য ভেদ করতে নামেন এক তরুণ পুলিশ অফিসার। চতুর্থ স্থানে রয়েছে ‘কুরুথি’ (Kuruthi)—জঙ্গলের মাঝখানে একাকী একটি বাড়ি এবং ঘৃণা ও প্রতিশোধের আগুনে উন্মত্ত একদল মানুষের মুখোমুখি সংঘাতের এই থ্রিলারটির গতি এতটাই রোমাঞ্চকর যে দর্শকদের ভাবারও ফুরসত দেয় না। আর পঞ্চম স্থানে থাকা মামুট্টির ‘কান্নুর স্কোয়াড’ (Kannur Squad) কোনো আধুনিক গ্যাজেটের সাহায্য ছাড়াই কেবল খাস কেরালা পুলিশের বুদ্ধি আর সাহসিকতাকে সম্বল করে অপরাধীদের নাগাল পাওয়ার এক রোমাঞ্চকর রোড-ইনভেস্টিগেশন থ্রিলার।

তবে এই সমস্ত দুর্দান্ত ছবির ভিড়েও আমাদের সম্পাদকীয় দলের সম্পূর্ণ মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে ‘দৃশ্যম ৩’। চলতি সপ্তাহে আমাদের টিভি৯ সুপারিশের (TV9 Recommendation) মুকুট এক বাক্যে ছিনিয়ে নিচ্ছে এই মাস্টারপিসটি। প্রশ্ন উঠতেই পারে, বাকি চমৎকার ছবিগুলোর তুলনায় এটি কেন সেরা? এর সবচেয়ে বড় এবং আকর্ষণীয় কারণ হলো এর প্যান-ইন্ডিয়ান বলিউড সংযোগ। আমরা সকলেই জানি যে ‘দৃশ্যম ১’ এবং ‘দৃশ্যম ২’ অজয় দেবগণকে নিয়ে হিন্দিতে রিমেক করা হয়েছিল এবং প্রায় একই রকম ছিল তার মূল প্লট। কিন্তু ‘দৃশ্যম ৩’-এর ক্ষেত্রে পুরো গেমপ্ল্যানে বিরাট পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, বলিউড তারকা অজয় দেবগণের হিন্দি ‘দৃশ্যম ৩’ যখন মুক্তি পাবে, তখন তার চিত্রনাট্য, পটভূমি ও ক্লাইম্যাক্স মালয়ালম মূল সংস্করণ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হতে চলেছে। এর পরিষ্কার অর্থ হলো, মোহনলাল ও জিতু জোসেফের হাতে তৈরি আসল রোমহর্ষক সমাপ্তি, যা একান্তভাবেই ভারতীয় মেজাজে ভরপুর, তা ভবিষ্যতের কোনো হিন্দি রিমেকে দেখতে পাওয়া যাবে না। জর্জকুট্টির এই দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি পুরনো লুকোচুরি খেলার আসল পরিণতি বা ক্লাইম্যাক্স কী হয়েছিল, তা জানতে হলে এই মালয়ালম সংস্করণটি দেখা ছাড়া আর কোনো দ্বিতীয় রাস্তা খোলা নেই।

বাকি চারটি ছবির ক্ষেত্রে দেখা যায় যে সেগুলোর প্রায় প্রতিটিই দুই ঘণ্টার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ও একক মামলার সমাধান করে দর্শককে তৃপ্তি দেয়। কিন্তু এর বিপরীতে ‘দৃশ্যম ৩’ হলো এমন একটি সুবৃহৎ গল্পের চূড়ান্ত সমাপ্তি, যা দর্শকরা বিগত ১০-১২ বছর ধরে হৃদয়ে ধারণ করে আসছেন। ২রা অক্টোবরের সেই কুখ্যাত রাতে জন্ম নেওয়া রহস্যের এটিই হলো আসল, চূড়ান্ত ক্লাইম্যাক্স। যখন এক দশকেরও বেশি লম্বা একটি জটিল রহস্য এত নিখুঁত এবং চমকপ্রদ উপায়ে শেষ হয়, তখন তা যেকোনো সাধারণ একক থ্রিলারের চেয়ে অনেক বেশি মানসিক সন্তুষ্টি প্রদান করে। বিশেষ করে সেই সমস্ত স্মার্ট দর্শকদের জন্য এই ছবি এক পরম পাওয়া, যারা সিনেমার প্রতিটি খুনের দৃশ্যে নিজেদের পোড়খাওয়া গোয়েন্দা ভেবে নেন এবং মনে করেন অপরাধী চিরকাল লুকিয়ে থাকতে পারে না। আপনি যদি বুদ্ধিদীপ্ত দাবা খেলা, পরিবারকে রক্ষা করার তীব্র আবেগ এবং অবিশ্বাস্য সব টুইস্টের রোমাঞ্চ উপভোগ করতে ভালোবাসেন, তবে এই উইকেন্ডে অন্য কিছু নিয়ে না ভেবে চোখ বন্ধ করে দেখতে শুরু করুন “দৃশ্যম ৩”!